উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: এসআইআর প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপে (Bengal SIR) আজ থেকেই রাজ্যের প্রায় ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার ভোটারের শুনানি শুরু করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। ‘ম্যাপিং’-এর জালে আটকে পড়া এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম আদৌ তালিকায় থাকবে কি না, তার ফয়সালা করার কাজ শুরু হচ্ছে আজ থেকেই। ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে বর্তমান তথ্যের মিল না পাওয়ায় এই সাড়ে ৩১ লক্ষ মানুষকে ‘সন্দেহজনক’ বা ‘নো-ম্যাপিং’ ক্যাটিগরিতে রেখেছিল কমিশন। এবার তাঁদের ভাগ্য নির্ধারণের পালা।
শনিবার থেকে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই একযোগে শুরু হচ্ছে এই শুনানি পর্ব। কমিশন সূত্রে খবর, গোটা প্রক্রিয়াটি হবে অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে। প্রতিটি কেন্দ্রে ইআরও (ERO) এবং সহকারী ইআরও-দের পাশাপাশি থাকছেন মাইক্রো অবজার্ভাররা। শুনানির সময় প্রতিটি ভোটারের ছবি তুলে রাখা হবে এবং তা সরাসরি পাঠানো হবে কমিশনের দপ্তরে। অর্থাৎ, ভুল তথ্য দিয়ে পার পাওয়ার কোনও সুযোগ থাকছে না। প্রতিটি টেবিলে দিনে ১০০ থেকে ১৫০ জনের শুনানি হবে বলে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে নির্বাচন কমিশন।
নিজেদের বৈধতা প্রমাণে ভোটারদের হাতে থাকছে ১৩টি নথির বিকল্প। ১৯৮৭ সালের আগের নথিপত্র, জমি বা বাড়ির দলিল, সরকারি চাকরির প্রমাণপত্র কিংবা জাতিগত শংসাপত্র—এর মধ্যে যে কোনও একটি পেশ করতে হবে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এবার সিএএ (CAA) শংসাপত্র দেখিয়েও নতুন ভোটার হওয়ার সুযোগ রেখেছে কমিশন। তবে ফর্ম-৬ পূরণ করে এই আবেদন করা যাবে।
শুধু এই ৩১ লক্ষ মানুষই নন, কমিশনের নজরে রয়েছেন আরও প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটার। এনুমারেশন ফর্মে দেওয়া তথ্যে গরমিল থাকায় তাঁদের দিকেও সন্দেহের তির রয়েছে। তবে এখনই তাঁদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে না। প্রথমে বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই করবেন। তাঁরা সন্তুষ্ট না হলে, দ্বিতীয় ধাপে এই ১ কোটি ৩৬ লক্ষ মানুষকেও শুনানির কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতে পারে। সব মিলিয়ে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়া শুধু তালিকা সংশোধন নয়, বরং রাজ্যের ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা যাচাইয়ের এক নজিরবিহীন মহড়া হতে চলেছে।
