জলপাইগুড়ি: স্কুলে প্রবেশের সময় ১০টা ৪৫ মিনিট। এই সময়ের মধ্যে প্রত্যেক ছাত্রীকে স্কুলে প্রবেশ করতে হবে বাধ্যতামূলকভাবে। সময়ের এক মিনিট দেরি হলেই সেই ছাত্রীকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। এমনই কঠোর নিয়ম চালু রয়েছে জলপাইগুড়ির সুনীতিবালা সদর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে। ছাত্রীদের ক্ষেত্রে নিয়ম প্রযোজ্য হলে শিক্ষিকাদের জন্য নয় কেন? এই নিয়মকে হাতিয়ার করেই সোমবার স্কুলের দুটি গেটে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দিল সময়ে ঢুকতে না পারা তিন ছাত্রী। এই ঘটনায় এদিন ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে স্কুল চত্বরে।
জানা গিয়েছে, স্কুলের নিয়ম অনুযায়ী ১০টা ৪৫ মিনিটের পরে আসায় স্কুলে ঢুকতে পারেনি তিন ছাত্রী। সময়ে ঢুকতে না পারার কারণে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন ফরম ফিলাপ করতে পারল না মনোসৃতা রায় নামে দ্বাদশ শ্রেণীর এক ছাত্রী। এদিন একই কারণে স্কুলে প্রবেশাধিকার মেলেনি নবম শ্রেনীর মিষ্টু রায়, একাদশ শ্রেনীর বিপাশা দাসের। ছাত্রীরা জানায়, “আমরা এত অনুরোধ করলাম প্রধান শিক্ষিকা শুনলেন না। উলটে আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করলেন।” তাঁদের বক্তব্য, অনেক শিক্ষিকাই নির্ধারিত সময়ের অনেক পড়ে স্কুলে আসেন। অথচ তাঁদের ঢুকতে বারণ করা হয় না। তাহলে শুধুমাত্র ছাত্রীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কেন? এই প্রশ্নও তুলেছে ছাত্রীরা। এই অভিযোগেই এদিন স্কুলের দুটি গেটে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেয় তিন ছাত্রী।
অন্যদিকে এদিন যখন বিদ্যালয়ের গেটে তালা মেরে ছাত্রীরা বসে আছে বাইরে। সেই সময় মদ্যপ অবস্থায় এক ব্যক্তি নিজেকে বিদ্যালয়ের কর্মীর পরিচয় দিয়ে ভিডিও করতে থাকেন৷ সাংবাদিকরা বাধা দিতেই স্কুলের উঁচু দেওয়াল টপকে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে৷ স্কুলে গেটের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা বলছেন তারা কাউকে দেখতে পারেনি। এতেই উঠছে প্রশ্ন। এই বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুতপা দাস বলেন, “বিদ্যালয়ের একটা নিয়ম আছে ১০টা ৪৫ এর মধ্যে প্রবেশ করতে হবে। একটু দেরি হলেও আমরা ঢুকতে দিই। যার রেজিস্ট্রেশন আছে তাকে কোনওভাবেই বলিনি ঢুকতে দেওয়া হবে না। আজ হয়নি পরে হবে। নিয়ম তো মেনে চলতে হবে। মেয়েদের বিদ্যালয়ে কীভাবে একজন মদ্যপ অবস্থায় দেওয়াল টপকে গেলেন প্রশ্ন করতেই তিনি আশ্বাস দিয়েছেন বিষয়টি দেখার।”
