অনসূয়া চৌধুরী, জলপাইগুড়ি: সারাবছর আমরা যাতে সুস্থ থাকি সেজন্য মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করি। অসুখ হলে আমরা যে ওষুধ খাই সেই ওষুধ দিয়ে যদি মহামায়ার মূর্তি তৈরি হয় তাহলে কেমন হবে। এবার পুজোয় আড়াই ফুট উচ্চতার এমন এক অভিনব মূর্তি তৈরি করেছেন জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) বাসিন্দা কুণাল বিশ্বাস। পেশায় আইনজীবী হলেও ছোট থেকে মায়ের মূর্তি গড়ার প্রতি তাঁর ঝোঁক রয়েছে। তাই শত ব্যস্ততার মধ্যেও প্রায় মাসখানেক ধরে অভিনব এক প্রতিমা তৈরি করছেন তিনি। নিয়ম মেনে মহালয়ার ভোরে মায়ের চক্ষুদান করেছেন।
কুণাল জানান, এর আগে তিনি তাম্রবর্ণের প্রতিমা বানিয়েছিলেন। এবার তিনি ক্যানসারের বিরুদ্ধে বার্তা দিতে চান। ক্যানসার রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দিন-দিন বেড়ে চলছে। যদিও এখন চিকিৎসাবিজ্ঞান উন্নত হওয়ায় অনেকে আরোগ্যলাভ করছেন। তাই চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তিনি বিভিন্ন জীবনদায়ী কিন্তু মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ ও কাচের গ্লাস দিয়ে মহামায়ার মূর্তি তৈরি করেছেন।
তাঁর কথায়, ‘মায়ের মূর্তি গড়ার এই অভিনব পদ্ধতি মাথায় আসতেই আমি চেনাপরিচিত সকলের থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ সংগ্রহের কাজ শুরু করি। ওষুধ রং করা থেকে শুরু করে আঠা দিয়ে কাচের গ্লাসে লাগানো সহ যাবতীয় কাজ আমি করেছি।’ তিনি মণিপুরি আদলে প্রতিমা তৈরি করার চেষ্টা করেছেন। ডাকের সাজের অলংকার তৈরি করতে তিনি ওষুধ ব্যবহার করেছেন।
তিনি জানান, শহরের বেশকিছু ক্লাব তাঁদের পুজোমণ্ডপে এই অভিনব প্রতিমাটি রাখতে চেয়েছিলেন। যদিও এবিষয়ে কুণাল বলেন, ‘এতদিন ধরে এই প্রতিমা তৈরি করেছি। তাই পুজোর ক’টা দিন নিজের হাতে গড়া প্রতিমার সঙ্গে দিন কাটাতে চাই।’
অন্যদিকে, মোহিতনগরের বাসিন্দা নবম শ্রেণির রিয়ান সেন ও পারমিতা রায় মিলে খবরের কাগজ ও ক্লে দিয়ে প্রায় ২ ফুট উচ্চতার প্রতিমা বানিয়েছে। গত ৫ বছর ধরে প্রতিবছর ওরা পড়াশোনার ফাঁকে প্রতিমা বানায়। মূর্তি গড়ার পাশাপাশি ওদের ইচ্ছা মানুষের জন্য কিছু করা। তাই ওরা ১০ টাকা দিয়ে একটি লাকি কুপনের আয়োজন করেছে। পুরস্কার হিসেবে পেন্সিল বক্স, জলের বোতল রয়েছে। রিয়ান বলে, ‘এই লাকি কুপনের থেকে যা টাকা জমা হবে তা কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে।’ ওদের ইচ্ছা মানুষের স্বার্থে ওই অর্থ ব্যবহার করা হোক।
খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পান্ডাপাড়া কালীবাড়ি এলাকার দশম শ্রেণির সম্রাট সরকার মাটি, খড় দিয়ে ছোট দুর্গা প্রতিমা বানিয়েছে। লকডাউনের সময় থেকে সে এই মূর্তি বানানো শুরু করেছিল। তারপর থেকে প্রতিবছর সে প্রতিমা বানায়। পড়াশোনার মাঝে ফাঁকা সময়ে সে এই মূর্তি তৈরি করে।
