পঙ্কজ মহন্ত, বালুরঘাট: পুজো শুরুর আগেই বালুরঘাটে ক্লাবে ক্লাবে লড়াই (Balurghat)। তবে এ লড়াই বাহুর নয়, বরং মগজের। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা কুইজ সংস্থা এবার পুজোয় নিল অভিনব উদ্যোগ। বালুরঘাটের ৮টি ক্লাব নিয়ে রবিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত আয়োজিত হল কুইজ প্রতিযোগিতা। চকভবানী বারোয়ারি কালীবাড়ি প্রাঙ্গণে বুদ্ধির যুদ্ধে শামিল হন পুজো উদ্যোক্তারা। এবছর প্রথম এমন উদ্যোগে খুশি ক্লাবের কর্মকর্তা থেকে সদস্য সকলেই।
এবার পুজোর মরশুমে বালুরঘাটে নতুন ছবি। আর পাঁচটা বছর যেমন মণ্ডপসজ্জা, প্রতিমা বা আলোকসজ্জার লড়াই ঘিরে ব্যস্ত থাকেন পুজো উদ্যোক্তারা, এবছর সেই প্রতিযোগিতার সঙ্গে যোগ হল এক অভিনব উদ্যোগ- বুদ্ধির লড়াই। একটা সময় বালুরঘাটে বিভিন্ন ক্লাবের মধ্যে সংঘর্ষের খবর শোনা যেত। কিন্তু সেইসব এখন অতীত। গত কয়েক দশকে সেই ছবি কোথায় যেন সম্প্রীতির আবহে উধাও হয়েছে। শহরের সংস্কৃতি আরও উপরের দিকে তুলে ধরতে এবার পুজো উদ্যোক্তাদের নিয়েই এমন বুদ্ধির লড়াই দেখে সাধুবাদ জানাচ্ছেন শহরবাসী। এই উদ্যোগের প্রথম বর্ষে বালুরঘাটের সৃজনী সংঘ, কচিকলা অ্যাকাডেমি, অভিযাত্রী, সংকেত, ত্রিধারা, শিবতলি, যাত্রিক ক্লাব ও প্রগতি সংঘ ক্লাবকে অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়েছিল। দুই-একটি উদ্যোক্তা বাদ দিয়ে প্রায় সব ক্লাবই অংশ নিয়েছিল এদিনের প্রতিযোগিতায়।
পুজোয় মণ্ডপের আলো, প্রতিমায় সেরার লড়াই তো থাকেই। কিন্তু এবছর পুজো উদ্যোক্তাদের মগজাস্ত্রে শান দিতে এই উদ্যোগ বলে কুইজ সংস্থা জানিয়েছে। প্রতিযোগিতা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন কুইজ সংস্থার অন্যতম সদস্য আকাশ চাকি। ক্লাবের পদাধিকারী থেকে সদস্যরা হয়ে ওঠেন এদিনের কুইজার। কুইজ মাস্টারদের প্রশ্নবাণে উঠে আসে জেলার ইতিহাস, পুরাকীর্তি থেকে শুরু করে পুরাণ ও পৌরাণিক বিভিন্ন তথ্য। প্রতিযোগিতা শেষে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় স্থানাধিকারী ক্লাবের পাশাপাশি কুইজ মাস্টার ও কুইজারদের স্মারক দেওয়া হয়েছে এদিন।
সৃজনী ক্লাবের সম্পাদক অরিন্দম চন্দ বলেন, ‘আমাদের ক্লাবের তরফে নবীন ও প্রবীণ প্রজন্মের অনেকেই বুদ্ধির খেলায় অংশ নিয়েছেন। পুজো মানে শুধু মণ্ডপ দেখে মুগ্ধ হলাম বা আলো দেখে অবাক হলাম এমনটা নয়। পুজোর অর্থ একত্রিত হওয়া। এখানে বিভিন্ন ক্লাব এক ছাদের তলায় এসে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সৌজন্য বিনিময় করল। উদ্যোক্তাদের এমন উদ্যোগকে কুর্নিশ জানাই।’
কুইজ সংস্থার তরফে আকাশ চাকির বক্তব্য, ‘পুজো মানেই আড্ডা। সেই আড্ডাই কুইজের মাধ্যমে নতুন মাত্রা পেল। কুইজের প্রশ্নে পৌরাণিক নানা তথ্য জানতে পেরে অংশগ্রহণকারীরা যেমন খুশি, তেমনই আনন্দিত দর্শকরাও।’ প্রথম বর্ষেই এই অভিনব আয়োজন যে শহরের সাংস্কৃতিক চর্চাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল, তা নিয়ে একমত বালুরঘাটের মানুষও।
