অনীক চৌধুরী, জলপাইগুড়ি: যাঁরা ভূতে ভয় পান, ভূতচতুর্দশী থেকে তাঁরা সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় রামনাম জপ করতে পারেন। কারণ, জলপাইগুড়ি শহরের কিছু এলাকায় অলিগলিতে হঠাৎ দেখা মিলতে পারে ‘তেনাদের’। রাস্তাঘাটে আচমকা ভয় দেখাতে সেই ‘ভূতেরা’ এখন নাওয়া-খাওয়া ভুলে রিহার্সাল দিতে ব্যস্ত। কারণ রবিবার ভূতচতুর্দশী থেকেই শুরু স্টেজ শো।
জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) শহরের ভগৎ সিং কলোনি স্পোর্টিং অ্যান্ড কালচারাল ক্লাব, নেতাজিপাড়া বা ইন্দিরা কলোনির পুজো প্রাঙ্গণে এখন ভূতেদের রিহার্সাল দেখতে ভিড় জমছে। কালীপুজো থেকে ভাইফোঁটা পর্যন্ত রাতে মণ্ডপ দেখতে আসা দর্শনার্থীদের বা ওই এলাকার রাস্তায় ভয় দেখানোর ট্রেনিং নিচ্ছে পাড়ার সাত থেকে সতেরো বছর বয়সি ভূতেরা। মেকআপ এবং ভূতের কস্টিউম পরা অবস্থায় তাদের নিজের বাড়ির লোকজনই চিনতে পারবেন না।
শহরের তিন ক্লাবের এবছরের পুজোর কমন থিম ‘ভূত’। পুজো প্রাঙ্গণে তো বটেই, তার আশপাশের রাস্তায় থাকবে বিভিন্ন ভূত-পেত্নী। দর্শনার্থীদের ভাগ্যে শ্মশানের ভূত কিংবা জম্বি জুটতে পারে। আবার মুখোমুখি হতে পারেন সাহেব ভূতেরও। আর থাকছে ভূতের কুটির। সেখানে পুজো দেখতে আসা দর্শনার্থী এবং ভূতেরা থাকবে অনেক ঘরের ভুলভুলাইয়ার মধ্যে। গা ছমছমে পরিবেশ, সাউন্ড এফেক্টসের সঙ্গে চলবে ওই ভূতেদের কাণ্ডকারখানা।
গত তিন-চার সিজন ধরে মানুষকে ভয় দেখানোর পর রূপসা দেবনাথ, অমিত রায়, টোটোন রায়, প্রেম মণ্ডলরা এখন বেশ পরিপক্ক ভূত। ভূতকে কীভাবে আরও ভয়ংকর রূপ দেওয়া যায়, সেই ভাবনায় এখন শান দিচ্ছে তারা। নেতাজিপাড়ার রুদ্র দাসের কথায়, ‘আগে ভূতের কীর্তি দেখাতে অন্যরকম লাগত। এখন আর সমস্যা হয় না। ভূতের কস্টিউম এবং মেকআপ ক্লাবের ছেলেরাই করি।’ ভগৎ সিং কলোনির পুজো কমিটির সম্পাদক শোভন বৈদ্য বলেন, ‘ভূতের থিম করলে আমরা বড় পুজোগুলোকে ভিড়ে টেক্কা দিতে পারি। শহরের বড় বাজেটের পুজোকে হারিয়ে মানুষ টানা সম্ভব নয়। আমরা ভূত সাজাতে বাইরের শিল্পী আনি না। আমাদের ক্লাব সদস্যরাই নিজেদের ইচ্ছায় ভূত সাজে। এবছর আমাদের নবম এডিশন। আগের বছর আমাদের ভূত মহল দেখতে লক্ষাধিক মানুষ এসেছিল। এবছর আশা রাখছি দেড় লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে। এবার বাড়তি পাওনা হিসেবে দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে নৈহাটির বড়মার আদলে শ্যামামূর্তি।’
ভৌতিক পরিবেশ প্রস্তুত করতে এই ছোট ক্লাবগুলো বিভিন্ন সিনেমার ভূতুড়ে মিউজিক নিয়ে একটি প্লে-লিস্ট বানিয়ে সেটাকে লুপে চালিয়ে আবহ তৈরি করে। ক্লাবের ছেলেমেয়েরা সকাল থেকে বিকেল পার করে সন্ধ্যাতেও রিহার্সাল দেয় নিয়মমাফিক। শুধু তাই নয়, ভূতের ভুলভুলাইয়া এবং কস্টিউম তৈরি করে নিজেরাই। পাড়ার লোকেরাও এসে দেখে যাচ্ছেন তাদের রিহার্সাল। কেউ কেউ আবার পরামর্শ দিচ্ছেন, কীভাবে পিলে চমকানো ভূত হওয়া যায়। এককথায়, জলপাইগুড়িতে ভূতচতুর্দশী থেকেও তেনাদের রাজত্ব।
