Jalpaiguri | বোনাস নিয়ে তোলপাড় চা বলয়, ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডেকে সমাধানের চেষ্টা

Jalpaiguri | বোনাস নিয়ে তোলপাড় চা বলয়, ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডেকে সমাধানের চেষ্টা

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


নাগরাকাটা ও বানারহাট: এ যেন সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলছে। সাততাড়াতাড়ি রাজ্য সরকার বোনাস নিয়ে অ্যাডভাইজারি দেওয়ার পর আশা করা হয়েছিল চা বাগানে বোনাস নিয়ে এবছর হয়তো আর কোনওরকম জটিলতা তৈরি হবে না। কিন্তু সেই আশায় জল ঢেলে দিয়ে পুজোর দিনক্ষণ এগিয়ে আসতে না আসতেই আবার অসন্তোষের কালো মেঘ ঢাকছে চা বলয়কে। কোথাও টানা পথ অবরোধ। কোথাও আবার কাজকর্ম ফেলে কয়েক ঘণ্টার গেট মিটিং। রয়েছে কাজে যোগ না দিয়ে প্রতিবাদে শামিল হওয়ার ঘটনাও। কম হারে বোনাস দিতে চাওয়ার ইস্যুকে কেন্দ্র করে শ্রমিক বিক্ষোভে শুক্রবার উত্তাল হয়ে উঠল ডুয়ার্সের নানা বাগান।

৮.৩৩ শতাংশ হারে বোনাস দিতে ইচ্ছুক জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) বানারহাটের (Banarhat) চামুর্চি চা বাগানের (Chamurchi Tea Backyard) পরিচালকরা বৃহস্পতিবার রাতে বাগান ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। শুক্রবার সেখানে কর্মবিরতির বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। এরপরই ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পায়ে হেঁটে চামুর্চি-আমবাড়ি মোড়ে এসে ভারত-ভুটান সার্ক রোড টানা ৮ ঘণ্টা ধরে অবরোধ করে রাখেন। ওই একই হারে বোনাস দিতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে নাগরাকাটার গ্রাসমোড় চা বাগানের শ্রমিকরা ঘণ্টা তিনেক গেট মিটিংয়ে শামিল হন। প্রতি ক্ষেত্রেই শ্রমিকদের দাবি, অ্যাডভা‌ইজারি মেনে ২০ শতাংশ হারেই বোনাস দিতে হবে।

অন্যদিকে, বকেয়া মজুরিকে কেন্দ্র করে বানারহাটের রেড ব্যাংক ও সুরেন্দ্রনগর চা বাগানের শ্রমিকরাও এদিন লাগোয়া জাতীয় সড়ক অবরোধ করে রাখেন। সকাল ৮টা থেকে চলা ওই অবরোধ দুপুর ৩টে নাগাদ তুলে নেওয়া হয়। এর জেরে জাতীয় সড়কে আটকে পড়ে অজস্র যানবাহন। স্পেনের বার্সিলোনার একটি পর্যটক পরিবারও অবরোধের কারণে সমস্যায় পড়ে। তারা আবার হাসিমুখে অবরোধকারীদের সঙ্গে রাস্তায় বসে পড়ে।

শ্রম দপ্তর জানিয়েছে, ১৩ সেপ্টেম্বর চামুর্চির পরিচালকদের নিয়ে আলাদা করে ও ১৬ সেপ্টেম্বর শ্রমিক-মালিক সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে। অন্যদিকে, রেডব্যাংক নিয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হবে ১৮ সেপ্টেম্বর। বানারহাটের বিডিও নিরঞ্জন বর্মন বলেন, ‘রেডব্যাংক চা বাগানে শনিবার থেকে ত্রাণ হিসেবে চাল দেওয়ার কাজ শুরু হবে।’

পুজোর মুখে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চামুর্চি চা বাগানে দুর্দশায় পড়েছে ১০৭৪টি পরিবার। সেখানকার এক শ্রমিক মণিকা রবিদাস বলেন, ‘পাক্ষিক মজুরি বাকি। পিএফের টাকা ঠিকমতো জমা পড়ে না। এভাবে বাগান ছেড়ে চলে গিয়ে মালিকপক্ষ অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ করেছে।’ মালিকপক্ষের নিন্দায় মুখর তৃণমূল চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়নের বানারহাট ব্লক কমিটির সভাপতি বিধান সরকারও। মালিকপক্ষের সংগঠন আইটিপিএ-র উপদেষ্টা অমিতাংশু চক্রবর্তী বাগান বন্ধের পিছনে সেই বোনাস ইস্যুর কথাই বলেছেন।

এদিকে, রেডব্যাংক ও সুরেন্দ্রনগরের পরিচালকরা বৃহস্পতিবার রাতে চলে গিয়েছেন। এদিন সকাল থেকে দুটি বাগানের শ্রমিকরাই ১৭ নম্বর জাতীয় সড়কে বসে পড়েন। বানারহাটের বিডিও ও ধূপগুড়ির এসডিপিও গিয়ালসন লেপচা এসে তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন।

কাগজে-কলমে রেডব্যাংক ও সুরেন্দ্রনগরের কর্ণধার সুশীলকুমার পাল। তবে তিনি বেশ কয়েক মাস ধরে বাগান চালাচ্ছেন না। বর্তমানে যিনি চালাচ্ছিলেন তিনি বামনডাঙ্গা-টন্ডু ও সামসিংয়ের কর্ণধার ঋত্বিক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘বৈঠকের কোনও চিঠি পাইনি।’

অন্যদিকে, কেন্দ্রের ভারী শিল্পমন্ত্রকের অধীনস্থ অ্যান্ড্রিউ ইউলের বানারহাট চা বাগানের শ্রমিকরা এদিন এক কিস্তিতে ২০ শতাংশ বোনাসের দাবিতে এদিন কাজেই যাননি। প্রায় আধ ঘণ্টা সার্ক রোড অবরোধ করে তাঁরা ফিরে যান। বোনাসে ছাড় চেয়ে এদিন ফের শ্রম দপ্তরকে চিঠি দিয়েছে মালবাজারের সাইলি চা বাগান। বীরপাড়ার দলমোড় চা বাগান কর্তৃপক্ষ ১০ শতাংশ বোনাস দিতে চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে মুখ্যসচিবকে। সেখানে তো ২০২২ সালের বোনাসও বকেয়া আছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *