উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্ব (Trinamool factionalism) এখন আর কোনো গোপন বিষয় নয়। লোকসভা নির্বাচনের ধাক্কার পর এই ফাটল আরও চওড়া হয়েছে। ঠিক এমনই এক আবহে দলের হেভিওয়েট সাংসদ তথা প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kalyan Banerjee) তীব্র আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছিল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee)। তবে রাজনৈতিক মহলে চমক জাগিয়ে, কল্যাণের সেই রূঢ় আক্রমণের জবাব পালটা আক্রমণ নয়, বরং এক অদ্ভুত নমনীয়তার সঙ্গে দিলেন অভিষেক।
কল্যাণের ‘হয় আমি, নয় অভিষেক’ তত্ত্ব ও দলত্যাগের সুর
বিগত দিনে আদালতে দাঁড়িয়ে অভিষেকের হয়ে একের পর এক আইনি লড়াই লড়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সম্প্রতি তাঁর সুর ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেছে। অভিষেকের আইনি ‘রক্ষাকবচ’ মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার পর কল্যাণ সরাসরি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘অভিষেকের জন্যই দলের সর্বনাশ হয়েছে। মমতাকে এবার বাছতে হবে— হয় আমি, নয় অভিষেক। এত ঔদ্ধত্যের কী আছে? সময় থাকতে ও শিক্ষা পেল না। আমি ক্যামাক স্ট্রিটের কর্মী নই।’
কল্যাণের এই আলটিমেটামের ঠিক পরদিনই এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় অভিষেকের বাসভবনে। একটি ডিজে (DJ) মামলার তদন্তের সূত্রে অভিষেককে নোটিশ দিতে আসে রাজ্য পুলিশের সিআইডি (CID)। দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা সিআইডি আধিকারিকদের অপেক্ষা করিয়ে বাড়ি ফেরেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড। একদিকে কেন্দ্রীয় এজেন্সির পাশাপাশি রাজ্য এজেন্সির চাপ, অন্যদিকে দলের অন্দরে বিদ্রোহ—এই দ্বিমুখী সংকটের মাঝেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কল্যাণের বিষয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কূটনৈতিক ও মানবিক সুর শোনা গেল অভিষেকের গলায়।
চেনা আগ্রাসী মেজাজ ঝেড়ে ফেলে অভিষেক অত্যন্ত শান্ত কণ্ঠে বলেন, ‘কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধিকার রয়েছে আমাকে নিয়ে কথা বলার। ওঁর অধিকার রয়েছে চারটে কটূ কথা শোনানোর। কারণ উনি আমাকে ছোট থেকে মানুষ করেছেন, বড় হতে দেখেছেন।’ এখানেই থামেননি অভিষেক। কল্যাণের আক্রমণকে ব্যক্তিগত স্তরে না নিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি ওঁর কথা একেবারেই খারাপভাবে নিই না। কোনও একটি ঘটনায় ওঁর হয়তো খারাপ লেগেছে, তাই বলেছেন। ওঁর প্রতি আমার কোনো ব্যক্তিগত ক্রোধ বা ক্ষোভ নেই। আগে যেমন সম্মান করতাম, আগামীতেও তেমনই করব।’
