সৌরভ দেব, জলপাইগুড়ি: গত কয়েকদিন ধরে রাত বাড়লেই জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) বিভিন্ন এলাকাজুড়ে ব্যাপক বৃষ্টি শুরু হচ্ছে। পরদিন সকাল পর্যন্ত টানা বৃষ্টি থাকছে। আর এতেই এলাকার পুজো উদ্যোক্তাদের কার্যত ঘুম উড়েছে। এছাড়া প্রতিমাশিল্পী এবং ডেকোরেটারদেরও চিন্তা বেড়েছে যথেষ্ট। একদিকে যেমন মণ্ডপসজ্জায় ব্যবহার করা রং ধুয়ে যাচ্ছে। ফলে পুজোর খরচ বাড়ছে। অন্যদিকে ঠিক সময়ে মণ্ডপসজ্জার কাজ শেষ হবে কি না তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। পুজোর আর হাতেগোনা মাত্র কয়েকদিন বাকি। শুক্রবার জলপাইগুড়ি শহর ঘুরে দেখা গেল, বেশিরভাগ বিগ বাজেটের পুজোমণ্ডপের বাঁশের কাঠামো এখনও কাপড়ে ঢাকেনি। বেশ কিছু জায়গায় মণ্ডপ ও আশপাশের জায়গা জলকাদায় ভরে রয়েছে। দিনের রোদ উঠলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে কাজ শুরু হলেও রাতের বৃষ্টি মণ্ডপ তৈরির কাজ পিছিয়ে দিচ্ছে।
এদিকে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস সম্পর্কে সিকিমের আবহাওয়া দপ্তরের কেন্দ্রীয় অধিকর্তা গোপীনাথ রাহা বলেন, ‘আগামী শনিবার উত্তরের জলপাইগুড়ি সহ পাঁচটি জেলাতে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। শনিবার থেকে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের অনেক জায়গাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবারের পর থেকে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা কমবে।’
মণ্ডপসজ্জায় প্লাইবোর্ডের ওপর রংয়ের কাজ যেখানে হচ্ছে, সেক্ষেত্রে সমস্যা সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। বৃষ্টির জলে প্লাই একদিকে যেমন ফুলে উঠছে, তেমনই রংয়ের উজ্জ্বলতা হারিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে যাঁরা মাঠজুড়ে মণ্ডপ তৈরি করছেন তাঁদের ক্ষেত্রে জলকাদা একটি বড় সমস্যা। দর্শনার্থীদের মণ্ডপে ঢোকা ও বেরোনোর পথে কাঠের পাঠাতন ভাড়া করতে বাড়তি খরচ করতে উদ্যোক্তারা বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়া একসঙ্গে এত পরিমাণ কাঠের পাটাতন জোগাড় করতেও হিমসিম অবস্থা। পাতকাটা কলোনি কালচারাল ক্লাব ও পাঠাগার পুজো কমিটির সম্পাদক প্রসেনজিৎ কর্মকার বলেন, ‘বৃষ্টির জন্য সমস্যায় পড়ে গিয়েছি। প্রতিদিন দিনেরবেলায় মণ্ডপ রং হচ্ছে আর রাতে রং নষ্ট হচ্ছে। আমাদের মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ঢুকতে হলে মাঠ পেরিয়ে যেতে হবে। এদিকে, মাঠ জলকাদায় ভরা। ফলে এখন গোটা মাঠ কাঠের পাটাতন দিয়ে ঢাকতে হচ্ছে।’
শহরতলির অপর একটি বিগ বাজেটের পুজোমণ্ডপ তৈরির দায়িত্ব নিয়েছেন কোচবিহারের ডেকোরেটার লক্ষ্মণ বর্মন। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টির জন্য কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে। খরচও বাড়ছে। কোনও কাজ একবারে ফিনিশিং দেওয়া যাচ্ছে না। বৃষ্টির জলে মণ্ডপের উজ্জ্বলতা থাকছে না। ফলে সময়ে কাজ শেষ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিচ্ছে।’ আবার একটি পুজোর আলোকসজ্জার দায়িত্বে রয়েছে সন্টু সরকার। তিনি বলেন, ‘ভিড় রাস্তায় দিনেরবেলা কোনও লাইট লাগানো যায় না। আমরা মূলত রাতেই কাজ করি। কিন্তু প্রতি রাতে যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে তাতে এখনও সেভাবে কিছুই করতে পারেনি। উদ্যোক্তারা বলেছিলেন মহালয়ার দিন থেকে এক-দুটো আলোর তোরণ তৈরি করতে। এখনও সেই কাজ হবে কি না বলতে পারছি না।’
