অনীক চৌধুরী, জলপাইগুড়ি: আর মাত্র হাতেগোনা কয়েকটা দিন বাকি। তারপরই দুর্গোৎসবে মেতে উঠবে আপামর বাঙালি। ঢাকের শব্দ আর শিউলির গন্ধে ভরে উঠবে চারদিক। পুজো কমিটিগুলোর প্রস্তুতিও প্রায় শেষের দিকে। বিগ বাজেটের পুজোগুলো একে অপরকে টক্কর দিতে তৈরি। পুজোর বাজারে ভারী নামগুলোর তলায়, কোথাও যেন চাপা পড়ে যায় ছোট ছোট পুজোগুলো। কিন্তু তাই বলে বহর কিংবা আয়োজনে কোনও অংশে কম যায় না সেগুলো। শিল্পসমিতিপাড়ার পুজো যেমন। শহরের বিগ বাজেটের প্রথম দশে নেই এই পুজো কমিটি। তবে প্রবীণ থেকে নবীনদের হাতে পুজোর দায়িত্ব আসার পর থেকে গত তিন বছর ধরে একটু একটু করে বড় হচ্ছে ওরা। শিল্পসমিতিপাড়া সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির এবারের থিম ‘মায়ের মন্দিরে বিবেকের আলো’ (Durga Puja 2025)। ৯৩তম বর্ষে তাদের মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে রামকৃষ্ণ মিশনের বেলুড় মঠের আদলে। এবছরের থিম দর্শনার্থীদের মনে ধরবে বলে আত্মবিশ্বাসী শিল্পসমিতিপাড়া সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি। তাদের এবারের বাজেট ৫ লক্ষ টাকা। উদ্যোক্তাদের আপ্রাণ চেষ্টা মণ্ডপের অন্দরের কাজ এবং বাইরের আকার যেন একদম নিপুণ হয়। সেই দিকে নজর সম্পাদক ত্রয়ী মনতোষপ্রসাদ শা, সৌরজিৎ ঘোষ, অশ্বিনীকুমার সাহাদের। বাঁশ, কাপড়, কাঠ এবং থার্মোকলের কাজ ফুটিয়ে তুলবে অবিকল বেলুড় মঠকে। শিল্পীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে উঠছে এই মণ্ডপ। পুজো কমিটির অন্যতম সম্পাদক মনতোষপ্রসাদ শা বললেন, ‘আমাদের এবছরের প্রতিমাশিল্পী কুমোরটুলির সৌরভ পাল। পুজোর বাজেট ৫ লক্ষ টাকা। মণ্ডপসজ্জায় রয়েছেন জলপাইগুড়ির শরৎচন্দ্র দেবনাথ। পুজোর কয়েকদিন বিভিন্ন সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেলুড় মঠের আদলে মণ্ডপের পাশাপাশি আলোকসজ্জাও আকর্ষণের বিষয় হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে পুজোর কয়েকটা দিন আনন্দে ভরে উঠবে।’ উদ্যোক্তারা জানান, রামকৃষ্ণ দেব, সারদা মা এবং স্বামীজির স্মৃতিতে আবদ্ধ এই পুজো দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে চতুর্থী থেকেই। পুজোর উদ্বোধন করবেন জলপাইগুড়ি রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের সম্পাদক স্বামী শিবপ্রেমানন্দ মহারাজ। তাই পুজোকে ঘিরে আয়োজনেও কোনও খামতি রাখবেন না উদ্যোক্তারা। পুজো কমিটির যুগ্ম সম্পাদক অশ্বিনীকুমার সাহার কথায়, ‘আমাদের পুজো বিবেক চেতনার বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেবে। এখানে ষষ্ঠীর দিন অঙ্কন প্রতিযোগিতা রয়েছে। নবমীর দিন বড় ভোগের ব্যবস্থা থাকছে সকলের জন্য। গতবছর আমাদের থিম ছিল বাংলার অন্যতম পীঠস্থান তারাপীঠ মন্দির। এবার বেলুড় মঠের আদলে মণ্ডপ বানিয়ে আমরা বাংলার সংস্কৃতি এবং স্বামীজির জীবনাদর্শকে তুলে ধরছি শহরবাসীর কাছে।’
