শুভদীপ শর্মা, লাটাগুড়ি: জঙ্গলের রাস্তায় জাতীয় সড়কে লাগাতার গাড়ির ধাক্কায় বন্যপ্রাণীর মৃত্যু ঠেকাতে নজরদারি বাড়াল বন দপ্তর। এবার থেকে হেঁটে গোটা জঙ্গলে দিনভর নজরদারি চালানো হবে। সেইসঙ্গে রাতেও গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ অভিযানে নামল বন দপ্তর। রাতে জঙ্গলের পাশের রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন গাড়ির চালকদের ওপর নজরদারির পাশাপাশি সচেতন করা হবে। নিয়ম ভেঙে কোনও গাড়ি দ্রুতগতিতে চললে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
মহাকালধাম থেকে খানিকটা দূরে রবিবার একটি পূর্ণবয়স্ক মাদি সম্বর এবং আরেকটু দূরে একটি বার্কিং ডিয়ারের দেহ পড়ে থাকতে দেখেন বনকর্মীরা। সোমবার দুপুরে সেই ঘটনাস্থল থেকে মাত্র একশো মিটারের মধ্যে একটি চিতাবাঘের পিষে যাওয়া দেহ উদ্ধার হয়। এবারের ঘটনাস্থল গরুমারা সেন্ট্রাল ওয়ান এবং লাটাগুড়ি জঙ্গলের সুরশ্রুতি পাঁচ নম্বর কম্পার্টমেন্টের মাঝে জাতীয় সড়ক। প্রত্যেকটি ঘটনাই ঘটেছিল গাড়ির ধাক্কায়। তার আগে গত সপ্তাহেও লাটাগুড়ি-চালসাগামী ৭১৩ নম্বর জাতীয় সড়কে গাড়ির ধাক্কায় আহত হয় একটি সম্বর।
বন্যপ্রাণীদের জন্য কাল হয়ে উঠেছে লাটাগুড়ি-চালসাগামী ৭১৩ নম্বর জাতীয় সড়কের মাঝের আট কিলোমিটার অংশ। সড়কের এই অংশে দু’পাশে লাটাগুড়ি এবং গরুমারার ঘন জঙ্গল। জঙ্গলের এক পাশ থেকে অপর পাশে যেমন বন্যজন্তুরা পারাপার করে, তেমনি তীব্রগতিতে এই পথ দিয়ে ছোটে পণ্যবাহী এবং যাত্রীবাহী গাড়িও চলাচল করে। প্রশাসনের তরফে এই সড়কে গাড়ির গতি ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই নিয়মের থোড়াই কেয়ার! নিয়মের তোয়াক্কা না করে অনেক বেশি গতিতে গাড়ি চলাচল করে এই পথে। সে কারণে যা হওয়ার তাই হচ্ছে দিনের পর দিন। একের পর এক এই পথে গতির বলি হচ্ছে বন্যপ্রাণীরা। রবি এবং সোমবারের ঘটনা তারই প্রমাণ। এই ঘটনার পর একদিকে সরব হয়েছেন পরিবেশপ্রেমীরা। অন্যদিকে, এই ধরনের ঘটনা রুখতে ময়দানে নেমেছে বন দপ্তরও। বন দপ্তরের লাটাগুড়ি রেঞ্জের তরফে ১২ ঘণ্টা এই পথে বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছেন বনকর্মীরা। মঙ্গলবার থেকে চারজন করে মোট আটজন বনকর্মী পর্যায়ক্রমে এই আট কিলোমিটার জঙ্গলের রাস্তায় হেঁটে গাড়ির গতিবিধির ওপর নজরদারি চালাচ্ছেন। পাশাপাশি রাতে বন দপ্তরের বিশেষ টিম নজরদারি চালাবে বলে জানালেন লাটাগুড়ি রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার সঞ্জয় দত্ত। তিনি বললেন, ‘গাড়ি করে নজরদারি চালাবে এই টিম। কোনও গাড়ি নির্দিষ্ট গতির বেশি গতিতে চললে সেগুলিকে প্রথমে চিহ্নিত করা হবে। তারপর পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে চালকদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বন দপ্তরের তরফে বন্যপ্রাণীর মৃত্যু রুখতে ব্যবস্থা তো নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে তা কতটা কার্যকর হয়, সেটাই দেখার।
