Jalpaiguri | বিতর্কের মধ্যেই নয়া দায়িত্বে, জেলা বইমেলার কার্যনির্বাহী সম্পাদক পদে সৈকত, প্রশ্ন তৃণমূলের

Jalpaiguri | বিতর্কের মধ্যেই নয়া দায়িত্বে, জেলা বইমেলার কার্যনির্বাহী সম্পাদক পদে সৈকত, প্রশ্ন তৃণমূলের

শিক্ষা
Spread the love


পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি: সুনীতিবালা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় নিয়ে বিতর্কের অবসান না হতেই সরকারি উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হতে চলা জলপাইগুড়ি জেলা বইমেলা পরিচালন কমিটির মাথায় আনা হল পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়কে। বইমেলা আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান পদে খোদ জেলা শাসক থাকলেও দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ কার্যনির্বাহী সম্পাদক হিসেবে সৈকতকে মনোনীত করেছে জেলা গ্রন্থাগার দপ্তর।

৪ ডিসেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৭তম সরকারি বইমেলা ফণীন্দ্রদেব ইনস্টিটিউশনের খেলার মাঠে হবে (Jalpaiguri)। সোমবার জেলা শাসকের কনফারেন্স রুমে বইমেলার আয়োজন নিয়ে বৈঠক হয়। সেই বৈঠকেই ৩৭তম জলপাইগুড়ি জেলা বইমেলা আয়োজক কমিটির ওয়ার্কিং সেক্রেটারি করা হয় সৈকত চট্টোপাধ্যায়কে।

জেলা জনশিক্ষা আধিকারিক ইমরান শেখের বক্তব্য, এবারের জেলা বইমেলার থিম ‘ভাষার ঐতিহ্য রক্ষা, আমাদের অঙ্গীকার’। ৭৫টি বই প্রকাশনী অংশ নেবে। বইমেলা উদযাপন কমিটিতে জেলা প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিক ছাড়াও জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান রয়েছেন। সৈকতের নাম প্রস্তাবে আসায় তিনিও সাদরে তা গ্রহণ করেন। যদিও এই নতুন দায়িত্বের বিষয়ে সৈকত কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

বরাবর দেখা গিয়েছে, জেলা বইমেলা মালবাজার বা ময়নাগুড়ি যেখানেই আগে হয়েছে সেখানে আয়োজক কমিটির মাথায় তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের পছন্দের লোকেরাই থেকেছেন। স্থানীয় স্তরে সংশ্লিষ্ট পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের মাথায় রেখেই তৃণমূলের বিভিন্ন মাধ্যমের লোকজন দায়িত্ব সামলেছেন। অতীতের মেলাগুলির কথা মাথায় রেখেই পুরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে সৈকতকে জেলা বইমেলার কার্যনির্বাহী সম্পাদক করা হয়েছে সর্বসম্মতিক্রমে।

এদিকে সৈকতের নাম-প্রস্তাব পাশ হওয়ায় জেলা তৃণমূলের অনেকেই অখুিশ হয়েছেন। স্কুল নিয়ে বিতর্কের মধ্যে সরকারিভাবে আয়োজিত জেলা বইমেলার দায়িত্ব দেওয়া আদৌ সঠিক হয়েছে কি না, তা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরেই আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, যেসব অরাজনৈতিক ব্যক্তি স্কুল কাণ্ডের প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন তাঁরা ও তাঁদের অনুগামীরা বইমেলামুখী হবেন কি না? তাছাড়া সৈকত বইমেলা আয়োজক কমিটির কার্যনির্বাহী সম্পাদক মনোনীত হওয়ায় বইমেলার রাশ নিজের হাতেই রাখবেন। ফলে তৃণমূলের যাঁরা একসময় জেলা বইমেলা সামলেছেন, তাঁরা সৈকতের কাছে পাত্তাও পাবেন না।

এদিকে প্রধান শিক্ষিকা সুতপা দাসকে পরিচালন সমিতির সভাপতি সৈকত চট্টোপাধ্যায় কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় এই মুহূর্তে সুনীতিবালা স্কুলের নাম খবরের শিরোনামে রয়েছে। অপরদিকে স্কুলের মিড-ডে মিলে গরমিলের অভিযোগের পাশাপাশি, অরুণিমা মৈত্র নামে এক শিক্ষিকাকে স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা করার তোড়জোড় শুরু করেছিলেন সুতপা। যদিও সেই তৎপরতায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন খোদ সৈকত। স্কুলের একটি নির্মাণকাজও বন্ধ করে দিয়েছিলেন সৈকত। এইসব বিষয় নিয়ে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের (মাধ্যমিক) স্কুলে গিয়ে সার্বিক তদন্ত করার কথা থাকলেও তাঁরা না যাওয়ায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *