Jalpaiguri | তপ্ত গরমে চাহিদা বাড়ছে শীতলপাটির, জলপাইগুড়িতে ফিরল ঐতিহ্যবাহী শিল্পের কদর

Jalpaiguri | তপ্ত গরমে চাহিদা বাড়ছে শীতলপাটির, জলপাইগুড়িতে ফিরল ঐতিহ্যবাহী শিল্পের কদর

ব্লগ/BLOG
Spread the love


জলপাইগুড়ি: তপ্ত গ্রীষ্মের দুপুরে ক্লান্ত শরীরটাকে এলিয়ে দিতে বিছানা কিংবা মেঝেতে পেতে রাখা শীতলপাটির চেয়ে আরামদায়ক আর কী-ই বা হতে পারে? শীতলপাটিতে শুয়ে তৃপ্তির যে ঘুমটা আসে, সেই অপার্থিব সুখ যিনি একবার নিয়েছেন একমাত্র তিনিই জানেন! ইদানীংকালে শহরাঞ্চলে শীতলপাটির ব্যবহার অনেকটাই কমেছে। নতুন প্রজন্মের অনেকেই শীতলপাটির সঙ্গে পরিচিত নন।

তবে গরমের দিনে গ্রামাঞ্চলের মানুষ এখনও বেত গাছের ছাল থেকে তৈরি এই পাটি বিশ্রামের কাজে ব্যবহার করে থাকেন।

সম্প্রতি রাজ্যের ২৩টি ঐতিহ্যবাহী পণ্যের মধ্যে অন্যতম কোচবিহারের শীতলপাটি জিআই ট্যাগের মর্যাদা পেয়েছে। আর তারপরেই জলপাইগুড়িতে (Jalpaiguri) শীতলপাটির কদর বাড়ছে বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। কিছুদিন আগে পর্যন্ত পুজোর উপকরণ কিংবা বিয়ের নিয়মরক্ষার জন্য শীতলপাটি বিক্রি হত শহরের বিভিন্ন দশকর্মা দোকানে। তবে এবছর চিত্রটা বদলেছে অনেকটাই। এত গরমে ফ্যান, এসির সঙ্গে বেড়েছে শীতলপাটির বিক্রি। দশকর্মা দোকানি সঞ্জয় সাহা বললেন, ‘গতবছর পর্যন্ত শহরে শীতলপাটির চাহিদা পুজো এবং বিয়েবাড়ির দানসামগ্রীতে সীমাবদ্ধ ছিল। এবছর দেখছি শহরের অনেক মানুষ এই পাটি বিশ্রামের জন্য কিনছেন। তাঁদের মতে, এসির হওয়া শরীরের পক্ষে ঠিক নয়। তাই ফ্যান এবং শীতলপাটির জুটি যথেষ্ট আরামদায়ক। তার ওপর জিআই ট্যাগের প্রাপ্তি হয়তো মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে এই শীতলপাটিকে।’

দিনবাজারের ব্যবসায়ী সানু রায় জানাচ্ছেন, এবার বাজারে ২০০-১৫০০ টাকার মধ্যে শীতলপাটি এসেছে। মানুষ কিনছেনও। বিশেষ করে ৮০০ থেকে ১০০০-এর মধ্যে মাঝারি সাইজের শীতলপাটির বিক্রি ভালোই।

শহরের অনেক বেতশিল্পীর মতে, এভাবে যদি শহরের মানুষের মধ্যে পাটির চাহিদা বাড়তে থাকে তাহলে এই শিল্পের কদরও বাড়বে। যে প্রজন্ম শীতলপাটি বানাতে ভুলে গিয়েছে বা শেখেনি তারাও উদ্বুদ্ধ হবে নতুন করে এই শিল্পে আসতে।

আদরপাড়ার বাসিন্দা শুভদীপ দত্ত বলেন, ‘অনেকদিন আগে পর্যন্ত বাড়িতে শীতলপাটি ছিল। মাঝে এই জিনিসটার ব্যবহার প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম। বিগত বছরগুলোতে গরম পড়লেও এবছরের মতো অস্বস্তিকর নয়। তাই মায়ের বুদ্ধিতে শীতলপাটি বাড়িতে এনে সত্যি আরাম পাচ্ছি। স্ট্যান্ড ফ্যান আর শীতল পাটি গরমের প্যাচপেচে ভাব থেকে অনেক আরাম দেয়। এসি, কুলারের কৃত্রিম শীতলতায় ঠান্ডা লাগার ভয়ও থাকে না।’ টেম্পল স্ট্রিটের বাজারে শীতলপাটি কিনতে এসেছিলেন দুই বন্ধু। তাঁদের মধ্যে পঙ্কজ রায় সিংহ বললেন, ‘এখানে তুলনামূলকভাবে সস্তায় শীতলপাটি পাওয়া যাচ্ছে। আমরা দুজন একটি করে মাঝারি সাইজের পাটি কিনলাম। দেখি গরমে কতটা আরাম পাওয়া যায়।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *