Jalpaiguri | জলপাইগুড়ি পুরসভা নিয়ে বড় নির্দেশ আদালতের! ৭ দিনের মধ্যে বোর্ড গঠন করবেন কাউন্সিলাররা

শিক্ষা
Spread the love


জলপাইগুড়ি: পুজোর মুখে জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) পুরসভা নিয়ে বড় নির্দেশ দিল হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ। যার ফলে স্বস্তির হাওয়া তৃণমূল কাউন্সিলারদের মধ্যে! বৃহস্পতিবার ডিভিশন বেঞ্চের দেওয়া নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী সাতদিনের মধ্যে বোর্ড গঠন করবেন কাউন্সিলাররা। অন্যদিকে, একজন প্রশাসকও নিযুক্ত হবেন দৈনন্দিন কাজকর্ম মনিটারিং করার জন্য।

গত কয়েক মাস ধরে টালমাটাল অবস্থা চলছে জলপাইগুড়ি পুরসভায়। তৎকালীন পুরপ্রধান সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে মমতাপন্থী তৃণমূল কাউন্সিলারদের দ্বৈরথের জেরে অচলাবস্থা তৈরি হয়। অনাস্থার চাপে পুরপ্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন সৈকত। আবার অন্যদিকে, কাউন্সিলারদের দাবি ছিল সৈকতকে অপসারণ করা হয়েছে। এরকম পরিস্থিতিতে বোর্ড অফ কাউন্সিলার্সকে পুর আইনের ৪৩০ এবং ৪৩১ ধারায় শোকজ করে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। এরপর সদর মহুকুমা শাসককে প্রশাসক হিসেবে পুরসভায় নিয়োগ করে রাজ্য।

সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের (Excessive Courtroom) জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে মামলা করেন কাউন্সিলাররা। সিঙ্গেল বেঞ্চ প্রশাসক বসানোর নির্দেশ খারিজ করে দেয় এবং কাউন্সিলারদের বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেয়। গত ১৯ সেপ্টেম্বর সেই বোর্ড গঠনের কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই রাত থেকে রাজনৈতিক উত্তাপের আবহ দেখা দেয়। তৃণমূল কাউন্সিলাররা অভিযোগ করেন, বোর্ড গঠনে বাধা দিতে চারজন কাউন্সিলারের বাড়িতে গভীর রাতে হামলা চালনো হয়, কাউন্সিলারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। বোর্ড গঠনের দিন নিরাপত্তার জন্য পুলিশ প্রশাসনের সাহায্য পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ ছিল কাউন্সিলারদের। ফলে বোর্ড গঠন ভেস্তে যায়।

এরপর সিঙ্গেল বেঞ্চের প্রশাসক বসানোর নির্দেশ খারিজ করার রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে যায় রাজ্য। বৃহস্পতিবার শুনানি হয়। রাজ্যের পক্ষে এ.এ.এ.জি. জাগৃতি মিশ্র পুরসভার অচলাবস্থা নিয়ে সওয়াল করেন। অন্যদিকে, তৃণমূল কাউন্সিলারদের তরফে আইনজীবী বিক্রমাদিত্য ঘোষ দাবি করেন, কাউন্সিলাররা বোর্ড গঠন করতে প্রস্তুত।

দুই পক্ষের সওয়াল জবাব শোনার পর বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ রায় দান করেন। রায়ে বলা হয়েছে, এক সপ্তাহের মধ্যে কাউন্সিলারদের বোর্ড গঠন করতে হবে এবং পুরপ্রধান নির্বাচন করতে হবে। নির্বিঘ্নে বোর্ড গঠনের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে হবে পুলিশকে।

পাশাপাশি পুরসভার দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনার জন্য জেলাশাসক ৭২ ঘন্টার মধ্যে একজন প্রশাসকও নিযুক্ত করবেন। তবে এর আগে প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা মহুকুমা শাসককে বাদ দিয়ে নতুন কাউকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করতে হবে। এর পাশাপাশি আদালতের নির্দেশ, ১০ দিনের মধ্যে রাজ্যের তরফে পুর আইনের ৪৩১ নং ধারায় পুরসভার বোর্ড অফ কাউন্সিলার্রসকে নতুন করে শোকজ করা হবে। পুরপ্রধান এবং কাউন্সিলাররা ১৫ দিনের মধ্যে সেই শোকজের উত্তর দেবে। তার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ করবে রাজ্য।

এদিন এই রায়ের পর স্বস্তি ফিরেছে মমতাপন্থী তৃণমূল শিবিরে। এই রায়কে গণতন্ত্রের জয় বলে দাবি করেছেন মমতাপন্থী তৃণমূল কাউন্সিলারারা। ১৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার উত্তম বোস জানিয়েছেন, তারা বোর্ড গঠনের জন্য সম্পূর্ণ তৈরী। তবে কে পুরপ্রধান এবং উপপুরপ্রধান হবেন তা খোলসা করেননি তাঁরা। যদিও সূত্রের খবর, ১৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তপন বন্দ্যোপাধ্যায় পুরপ্রধান এবং ১৮নং ওয়ার্ডের উত্তম বোস উপপুরপ্রধান হতে চলেছেন। বোর্ড গঠনে বাধা দেওয়ার জন্য নাম না করে বিজেপির দিকেও আঙুল তুলেছেন তৃণমূল কাউন্সিলাররা। বোর্ড গঠনের জন্য বিরোধী কাউন্সিলাদের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে তৃণমূলের তরফে।

যদিও বিজেপি জেলা সহসভাপতি বুবাই করের দাবি, দলের কোনও কাউন্সিলার নেই, তাই পুরসভা নিয়ে তাদের বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। তৃণমূলের মধ্যে ‘ঋত-মৃত-এনসিপি’ বহু বিভাজন। নিজেদের দ্বন্দের জেরেই পুরসভায় অচলাবস্থা তৈরি করেছে তৃণমূল।

অন্যদিকে, আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে পুরসভার বিরোধী কংগ্রেস দলের কাউন্সিলার অম্লান মুন্সি জানিয়েছেন, এই লড়াইতে মানুষের পরাজয় হচ্ছে। পুরসভা সচল হয়ে সুষ্ঠভাবে মানুষকে পরিষেবা দিক এটাই কাম্য।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *