অনীক চৌধুরী, জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) শহরের বুকে একখণ্ড সবুজে মোড়া উদ্যানটি ছিল অক্সিজেনের মতো। শিশুদের ছোটাছুটি আর রঙিন রাইডে ঘেরা ছবিই ছিল সকলের কাছে পরিচিত। তবে সব এখন অতীত। জেওয়াইএমএ ক্লাব সংলগ্ন জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri Information) শহরের সবচেয়ে পুরোনো উদ্যানটি এখন সামান্য এক পরিত্যক্ত জমি।
খেলনা বা রাইডগুলি চুরি হয়েছে আগেই। বিকেলে সেখানে শিশুদের কোলাহল শোনা যায় না। তার বদলে উদ্যানটি এখন গোরু-ছাগলের বিচরণক্ষেত্র। সন্ধ্যার পর নেশার আড্ডাও বসে বলে অভিযোগ। এই উদ্যানটির হাল ফেরাতে পুরসভার তরফে পার্ক মডিফিকেশন করার প্রোজেক্ট নেওয়া হলেও, কতদিনে এই দেওয়ালঘেরা জমি পার্কের চেহারা নেবে তা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠছে।
জলপাইগুড়ি পুরসভার (Jalpaiguri Municipality) প্রাক্তন চেয়ারম্যান মোহন বসুর সময়ে উদ্যানটির হাল কিছুটা ফেরানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তখন একটি রেস্তোরাঁ থাকলেও এখন সেটিও বন্ধ। পঞ্চাশের দশকে গড়ে ওঠা জেওয়াইএমএ ক্লাবের এই উদ্যানটির সঙ্গে শহরের প্রবীণদের অনেক স্মৃতিই জড়িয়ে। জেওয়াইএমএ ক্লাব সূত্রে খবর, স্বাধীনতা সংগ্রামী শান্তি সিংয়ের নামে এই শিশু উদ্যানটি গড়ে ওঠে ১৯৫৮ সালে। এতে জলপাইগুড়ির নবাববাড়িরও অবদান রয়েছে। ১৯৬৮ সালে বন্যায় উদ্যানটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আটের দশকের শেষ দিক থেকে যুগলকিশোর দাগা এবং অসিত সেন পার্ক সংস্কারের জন্য পাঁচ হাজার টাকা করে দিতেন। তাঁদের মৃত্যুর পর ওই ফান্ড বন্ধ হয়ে যায়।
প্রাক্তন বিধায়ক তথা জলপাইগুড়ি নাগরিক মঞ্চের আহ্বায়ক গোবিন্দ রায় বলেন, ‘পুরসভা, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর, বন বিভাগ বা এসজেডিএ চাইলেই এই উন্নয়ন করতে পারে। কিন্তু কোথায় যেন তাদের মধ্যে একটি অনীহা কাজ করছে।’ যদিও উদ্যান ও কানন বিভাগের তিস্তা উদ্যান, শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের রাজবাড়িদিঘি উদ্যান এখন বেশ জনপ্রিয়। প্রশ্ন উঠছে, নতুন উদ্যানগুলির সঙ্গে শহরের এবং সবচেয়ে পুরোনো উদ্যানের দিকে কেন নজর নেই। পরিত্যক্ত এই জায়গাটি অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়া হয়ে উঠেছে।
শহরের প্রবীণ নাগরিক মণীন্দ্র রায়ের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, শহরের সবচেয়ে পুরোনো উদ্যানটি চালু হলে খেলাখুলোর জন্য ছোটরা আরও একটি জায়গা পাবে। তিস্তা উদ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত সেতুর মাধ্যমে এই উদ্যানটিকে জুড়ে দেওয়ার কথাও হয় একবার। কিন্তু সেই কথা কোথায় যে হারিয়ে যায়, তার উত্তর মেলা ভার।
এবিষয়ে পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের অবশ্য বক্তব্য, ‘শহরের সবচেয়ে পুরোনো এই উদ্যানের সংস্কার ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। উদ্যানের চারপাশে নর্দমা তৈরির কাজ শেষ। জঙ্গল পরিষ্কার করে মাটি ফেলে উদ্যান সমান করার কাজ হয়েছে। দ্রুত উদ্যানটি সংস্কার করে আমরা শিশুদের জন্য খুলে দেব।’
