অনসূয়া চৌধুরী, জলপাইগুড়ি: ছটপুজোর রাতে পরপর ৬ জায়গায় চুরি। ৬টিই বিভিন্ন দেবদেবীর মন্দির। জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) শহরতলির খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের দেবনগরে এই ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন মন্দির থেকে দেবদেবীদের অলংকার চুরি করে চম্পট দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। সোমবার রাতে ছয়টি চুরি পুলিশি ব্যর্থতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল বলে মন্তব্য স্থানীয়দের।
এর পাশাপাশি একই রাতে আরেকটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। শহরের ক্লাব রোড সংলগ্ন এলাকার এক ছটব্রতীর বাড়িতে তালা ভেঙে সোনা-রুপোর অলংকার চুরি হয়েছে। শহর সহ শহর সংলগ্ন এলাকায় একসঙ্গে চুরির ঘটনায় সন্দেহ, শহর এলাকায় কোনও গ্যাং এই কাজ করেছে। পুলিশ সুপার খান্ডবাহালে উমেশ গণপত বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
কালী, হনুমান, কৃষ্ণ, মঙ্গলচণ্ডী কোনও মন্দিরই এই দুষ্কৃতীদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। মঙ্গলবার সকালে দেবনগর বারোয়ারি দক্ষিণা কালী মন্দিরে মঙ্গলারাতি করার জন্য গেট খুলতেই এলাকাবাসীরা দেখতে পান, দরজার তালা ভাঙা৷ এরপর কালীমায়ের সোনা ও রুপোর অলংকার নেই। ধীরে ধীরে জানা যায়, ওই এলাকার ৫০০ মিটার থেকে ১ কিমির মধ্যে প্রায় ৬টি মন্দিরে একইভাবে চুরির ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে কিছু বাড়ির ও বাকিগুলো সর্বজনীন। দেবনগর বারোয়ারি দক্ষিণাকালী মন্দিরের পুরোহিত গৌরাঙ্গ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘মন্দিরগুলোতে চুরি মেনে নিতে পারছি না। বাড়ির ভেতরে থাকা মন্দিরগুলোকেও ছেড়ে দেয়নি।’ মন্দিরের সম্পাদক প্রদীপ দত্ত বলেন, ‘একটি রুপোর চূড়া, চূড়ার ভেতরে থাকা একটি সোনার মুকুট, দুটি সোনার মঙ্গলসূত্র, কানের দুটি সোনার দুল চুরি গিয়েছে। এর দাম কয়েক লক্ষ টাকা। কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি৷ মায়ের অলংকার ফিরে পেলেই আমরা খুশি।’
অন্যদিকে, একই এলাকার এক বাড়ির ভেতরে থাকা মঙ্গলচণ্ডীর মন্দিরের তালা ভেঙে কপালে থাকা সোনার টিপ সহ কানের দুল চুরি হয়েছে। যার বাজারমূল্য দেড় লক্ষ টাকা বলে জানান বাড়ির মালিক প্রদীপকুমার ঘোষ। দেবনগর সতীশ লাহিড়ি বিদ্যালয়ের বিপরীতে থাকা হনুমান মন্দিরেও ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ সহ কপালে থাকা সোনার টিপ চুরি হয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী সাগর দত্ত। তিনি বলেন, ‘ক্যাশ বাক্সে আনুমানিক ৮-১০ হাজার টাকা ছিল।’
শহরের ক্লাব রোড এলাকার এক ছটব্রতীর বাড়িতেও চুরির ঘটনা ঘটে। এবিষয়ে রিতা মণ্ডল বলেন, ‘ছটপুজোর জন্য রাত তিনটের সময় সবাই ঘাটের উদ্দেশে বেরিয়েছিলাম। দরজায় তালা দেওয়া ছিল। ঘাট থেকে ফিরে দেখি তালা ভাঙা। আলমারিতে থাকা নগদ ৪০ হাজার, দু’জোড়া কানের দুল, রুপোর তোড়া, নাকের দুল নেই।
একইদিনে একই এলাকার ৬টি মন্দিরে চুরি সহ বাড়ি থেকে চুরি আগে শোনা যায়নি বলে অভিমত দেবনগর এলাকার বাসিন্দাদের। ঘটনায় পুলিশের নজরদারি প্রশ্নের মুখে।
