সৌরভ দেব, জলপাইগুড়ি: নিউ জলপাইগুড়ি বা এনজেপি স্টেশনের (NJP Station) নাম পরিবর্তন নিয়ে জলপাইগুড়িতে (Jalpaiguri) নানা মুনির নানা মত। কেউ এনজেপি স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে শিলিগুড়ির সঙ্গে মিলিয়ে করার প্রস্তাবকে সমর্থন করছেন। কেউ আবার এনজেপির নাম পরিবর্তন হলে প্রতিবাদে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে, সমাজমাধ্যমে অধিকাংশই মনে করছেন, এনজেপি স্টেশনের নাম বদলে দার্জিলিং জেলার মুখ্য স্টেশন করা হলে জলপাইগুড়ি জেলার মুখ্য স্টেশন করতে হবে জলপাইগুড়ি রোডকে। সেক্ষেত্রে জলপাইগুড়ি স্টেশনের গুরুত্ব বাড়িয়ে একাধিক ট্রেনের স্টপ হলে আখেরে ক্ষতি নেই জলপাইগুড়ির। যে সমস্ত ট্রেনের এখনও এনজেপিতে স্টপ রয়েছে অথচ জলপাইগুড়ি রোডে নেই, রাজধানী সহ এমন প্রতিটি ট্রেনের স্টপ জলপাইগুড়ি রোডে দিতে হবে। অন্যথায় নাম পরিবর্তন মানা হবে না। তবে বিশেষ করে জলপাইগুড়ি শহরের একাংশ বাসিন্দা এর বিরোধিতা করে বলেছেন, স্টেশনের নাম পরিবর্তনের নেপথ্যে জেলার অঙ্গচ্ছেদের চেষ্টা করা হলে সেটা মানা হবে না।
সার্কিট বেঞ্চ তৈরি নিয়ে দীর্ঘদিন টানাপোড়েন চলেছিল জলপাইগুড়ি এবং শিলিগুড়ির মধ্যে। আন্দোলনের জেরে শেষপর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ হয়েছে জলপাইগুড়ি শহরেই। এবার এনজেপি স্টেশনের নাম পরিবর্তন নিয়ে অবশ্য সরাসরি সংঘাত চাইছে না জলপাইগুড়ি।
শিলিগুড়ির বাসিন্দারা থেকে রাজনৈতিক নেতারা নাম পরিবর্তনের যুক্তি হিসেবে বলছেন, জলপাইগুড়ি শহর থেকে নিউ জলপাইগুড়ির স্টেশনের দূরত্ব ৪০-৪৫ কিলোমিটার। স্টেশনটি জলপাইগুড়ি জেলার অন্তর্গত হলেও শিলিগুড়ির লাগোয়া। এজন্য বাইরে থেকে আসা পর্যটকদের কাছে নাম নিয়ে একটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
শিলিগুড়ির যুক্তিতে আপত্তি তুলছে না জলপাইগুড়ি। বরং তারা দেখতে চায়, এতে জলপাইগুড়ির লাভক্ষতি কী হল। জলপাইগুড়ি ডিস্ট্রিক্ট চেম্বার অফ কমার্সের সম্পাদক অভ্র বসু বলেন, ‘প্রথমে দেখতে হবে নাম পরিবর্তন হলে আমাদের জলপাইগুড়ি রোডে (Jalpaiguri Street Station) নতুন ট্রেনের স্টপ পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বাড়তি সুবিধে হল কি না। যদি এমনটা হয় যে এনজেপি স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে শিলিগুড়ি হওয়ার মানে সেটিকে রেলমন্ত্রক থেকে দার্জিলিং জেলা স্টেশন হিসেবে ধরে নেওয়া হচ্ছে এবং সেইসঙ্গে জলপাইগুড়ি জেলার সবচয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন হিসেবে রোড স্টেশনকে ধরা হচ্ছে, তাহলে আশা করব এখানে ট্রেনের স্টপও বাড়বে। সেক্ষেত্রে নাম পরিবর্তনে কোনও সমস্যা নেই। আমাদের একটাই দাবি থাকবে নাম পরিবর্তন হোক, কিন্তু জলপাইগুড়ি স্টেশনে রাজধানী সহ সমস্ত ট্রেনের স্টপ দিতে হবে।’
এনজেপি স্টেশনের নাম পরিবর্তনের দাবির তীব্র বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জলপাইগুড়ি সংগ্রামী মঞ্চ। জলপাইগুড়ি জেলার অংশের কোনও সরকারি সম্পত্তির নাম পরিবর্তন করার চেষ্টা করা হলে আবার সার্কিট বেঞ্চের ধাঁচে আন্দোলন শুরু হবে বলে মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক আইনজীবী গৌতম পাল জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আগামী দু-তিনদিনের মধ্যেই জলপাইগুড়ি সংগ্রামী মঞ্চ বৈঠকে বসতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে।
এক সময় আলিপুরদুয়ার ছিল জলপাইগুড়ি জেলার অংশ। জেলা ভাগ হওয়ার কারণে আলিপুরদুয়ার জেলার অধীনে চলে গিয়েছে বহু চা বাগান। সেক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিরও সম্মুখীন হয়েছে জলপাইগুড়ি জেলা। এনজেপি স্টেশনের নাম বদলে শিলিগুড়ি করার দাবি উঠতেই ফের জেলার অঙ্গচ্ছেদের আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকেই। জলপাইগুড়ি শহরের বাসিন্দা কল্লোল বিশ্বাস বলেন, ‘এনজেপি স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে শিলিগুড়ি স্টেশন করার দাবি নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। কিন্তু দেখতে হবে নাম পরিবর্তনের আড়ালে জেলার অঙ্গচ্ছেদ না হয়। এরপর যেন দাবি করা না হয় এনজেপি স্টেশনকে দার্জিলিং জেলার অন্তর্ভুক্ত করা হোক। সেটা মেনে নেওয়া যাবে না।’
শহরের বাসিন্দা তথা জলপাইগুড়ি নেচার অ্যান্ড ট্রেকার্স ক্লাবের সম্পাদক ভাস্কর দাস বলেন, ‘বাইরের অনেকেই নিউ জলপাইগুড়ির সঙ্গে জলপাইগুড়ি শহরকে মিলিয়ে ফেলেন। জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনকে শহরের মুখ্য স্টেশন করতে গেলে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের নাম পরিবর্তন দরকার। শোনা যায়, অনেক ট্রেনের স্টপ নিউ জলপাইগুড়িতে আছে বলে জলপাইগুড়ি রোডে তা করা যাচ্ছে না। শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিতে জলপাইগুড়ি রোডে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের স্টপ দেওয়া দরকার।’
