কিশনগঞ্জ: বিহারে লটারি নিষিদ্ধ (Faux Lottery) হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে চলছিল প্রতারণার কারবার। অবশেষে শুক্রবার কিশনগঞ্জ পুলিশের এক বড়সড় অভিযানে ধরা পড়ল আন্তঃরাজ্য জাল লটারি চক্রের পাণ্ডারা। উদ্ধার হয়েছে লক্ষাধিক টাকার জাল টিকিট, নগদ টাকা ও ডায়েরি। শুক্রবার দুপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই সাফল্যের কথা জানান কিশনগঞ্জের পুলিশ সুপার সন্তোষ কুমার।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ শহরের তেঘরিয়া, কসেরা পট্টি ও গারিওয়ান মহল্লায় অভিযান চালায়। অভিযানে ১৬ লক্ষ টাকা বাজারমূল্যের মোট ২ লক্ষ ৬১ হাজার ৫০০টি জাল লটারি টিকিট বা কুপন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এছাড়া চক্রের মাস্টারমাইন্ডের কাছ থেকে নগদ ২৩ হাজার ৮৯৪ টাকা, ৪টি মোবাইল ফোন এবং এই অবৈধ ব্যবসার হিসাব রাখা ৩০টি ডায়েরি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় পুলিশ মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতরা হল, মহম্মদ নসীম (৫৬), মহম্মদ শাকির আলম (২৫), মহম্মদ আলি খান (২৫), সুরজ কুমার ওরফে ছোটু (৩০), কৃষ্ণা মাহাতো ওরফে সানি কুমার (২২), মহম্মদ আদিল (২৩)।
জেরায় মূল অভিযুক্ত মহম্মদ নসীম স্বীকার করেছে যে, এই চক্রটি বিহার ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় জাল লটারি ছাপিয়ে আসছিল। দুই রাজ্যের গ্রামগঞ্জে শক্তিশালী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই টিকিট বিক্রি করে সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত করত তারা।
পুলিশ সুপার সন্তোষ কুমার জানান, এই চক্রের শিকড় অনেক গভীরে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে এই ব্যবসার ‘ব্যাকওয়ার্ড ও ফরওয়ার্ড লিঙ্ক’ অর্থাৎ কারা ছাপাত এবং কোথায় সরবরাহ হতো, তার তথ্য পাওয়া গিয়েছে। এই বিষয়ে প্রতিবেশী রাজ্যের (পশ্চিমবঙ্গ) পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে কিশনগঞ্জ আদালতের নির্দেশে ধৃতদের ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেপাজতে জেলে পাঠানো হয়েছে।
