Jalpaiguri | উত্তরবঙ্গ সংবাদের খবরের জের: জলপাইগুড়ি মারওয়াড়ি বালক হিন্দি প্রাইমারি স্কুলে ডিআই, কাঠগড়ায় প্রধান শিক্ষক

শিক্ষা
Spread the love


জলপাইগুড়ি: উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইনের খবরের জের! জলপাইগুড়ি মারওয়াড়ি বালক হিন্দি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে খুদে ছাত্রদের ওপর শারীরিক নির্যাতন, মিড ডে মিলের অনিয়ম এবং সহকর্মী ও অভিভাবকদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর অবশেষে নড়েচড়ে বসল জেলা শিক্ষা দপ্তর। মঙ্গলবার দুপুরে ওই স্কুলে সরাসরি পরিদর্শনে পৌঁছালেন জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক (DI) নিলয়কান্তি ঘোষ সহ শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের একটি বিশেষ দল।

মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক) নিলয়কান্তি ঘোষ এবং শিক্ষা দপ্তরের অপর দুই আধিকারিক সরজমিনে মারওয়াড়ি বালক হিন্দি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসেন। অভিযোগকারী সহকারী শিক্ষিকা সরিতা চৌধুরী এবং মিড ডে মিলের রাঁধুনিদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন তাঁরা।

এরপর অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক প্রভাত মণ্ডলকে একের পর এক কড়া প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। মিড ডে মিলের দুরাবস্থা, পড়ুয়াদের ওপর নির্যাতন, সহকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং পঠনপাঠনের পরিবেশ নষ্ট হওয়া নিয়ে শিক্ষাধিকারিকরা প্রবল অসন্তোষ প্রকাশ করেন। দ্রুত সমস্ত অনিয়ম শুধরে নিয়ে স্কুলে পঠনপাঠনের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রধান শিক্ষককে কড়া বার্তা দেন পরিদর্শক। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষিকাকেও পঠনপাঠন সচল রাখতে প্রধান শিক্ষককে সহযোগিতার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সোমবারে ঘটে যাওয়া তুমুল বিশৃঙ্খলা ও শারীরিক নির্যাতনের খবরের জেরে মঙ্গলবার স্কুলে একটিও ছাত্র পড়তে আসেনি! গোটা স্কুল চত্বর কার্যত ফাঁকা পড়ে থাকে। তবে পরিদর্শকের উপস্থিতির পরেও নিজের মেজাজ বদলাননি প্রধান শিক্ষক। স্টোর রুমের চাবি না মেলায় এদিনও মিড ডে মিল কর্মীদের ওপর মেজাজ হারিয়ে হম্বিতম্বি করতে দেখা যায় প্রধান শিক্ষককে। যদিও মিড ডে মিল কর্মীদের পালটা দাবি, আগের দিনই চাবি প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল।

অন্য দিকে, নির্যাতিত সহকারী শিক্ষিকা সরিতা চৌধুরী জানান, স্কুলে আসতে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অবিলম্বে স্কুলে নিরাপদ ও সুস্থ পঠনপাঠনের পরিবেশ তৈরি করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক তরজাও। ইস্ট সার্কেলের একাধিক হিন্দি মাধ্যম স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা মঙ্গলবার শিক্ষা দপ্তরে গিয়ে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের সঙ্গে দেখা করেন এবং বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করার দাবি তুলে পরোক্ষভাবে প্রধান শিক্ষকের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অন্য দিকে, বিজেপি শিক্ষক সেলের জেলা আহ্বায়ক জীবেশ দাস জানান, খবর প্রকাশের পর বিদ্যালয় পরিদর্শক দ্রুত তৎপর হয়ে হস্তক্ষেপ করেছেন, এতে স্কুলে দ্রুত পঠনপাঠনের সুস্থ পরিবেশ ফিরবে বলে তাঁরা আশাবাদী।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *