Islampur | শিবরাত্রিতে জীবসেবা, পথকুকুরদের দুধ-বিস্কুট খাওয়ালেন ইসলামপুরের একদল তরুণ  

Islampur | শিবরাত্রিতে জীবসেবা, পথকুকুরদের দুধ-বিস্কুট খাওয়ালেন ইসলামপুরের একদল তরুণ  

শিক্ষা
Spread the love


শুভজিৎ চৌধুরী, ইসলামপুর: বুধবার ছিল শিবরাত্রি। সকাল থেকেই দোকানে দোকানে পুজোর উপকরণ কেনার চাহিদা ছিল তুঙ্গে। আর সেই উপকরণের তালিকায় সবচেয়ে ওপরে স্থান পেয়েছিল দুধ। আর চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দুধের দামও ছিল আকাশছোঁয়া। সেই দুধ ভর্তি বালতি নিয়েই একদল তরুণ ইসলামপুর (Islampur) শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য পথচলতি সকলেরই নজর কাড়ছিল। বিশেষ করে তাঁদের গন্তব্য যখন নির্দিষ্ট কোনও মন্দিরের অভিমুখে ছিল না। বিষয়টি নিয়ে সকলের মধ্যে যখন বেশ গুঞ্জন তখন হঠাৎই দেখা গেল বিডিও অফিস সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছে তাঁরা নিজেদের বাইক থামাল। সেখানে রাস্তার ধারে কয়েকটি কুকুর শুয়ে ছিল। এরপর তাঁদের মধ্যে একজন ব্যাগ থেকে কয়েকটি কাগজের বাটি বের করে কুকুরগুলোর সামনে সাজিয়ে সেখানে বিস্কুট ভেঙে দিলেন। তারপর গ্লাসে করে বালতি থেকে দুধ বের করে সেই বাটিতে ঢেলে দিলেন আরেকজন। শিবরাত্রির দিনে শহরের একাধিক এলাকায় এমন দৃশ্যের সাক্ষী হতে পারায় ততক্ষণে আপ্লুত শহরবাসী।

ওই তরুণদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তাঁরা সকলেই ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত। ওঁদের নাম সুরজিৎ ভৌমিক, আদিত্য কুমার এবং শুভেন্দু মণ্ডল। এদিন তাঁদের এই কাজে সঙ্গী ছিলেন সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের সহকারী সুপার রণজিৎ বিশ্বাস। সকলে মিলে বাইকে চেপে বাস টার্মিনাস, পার্ক মোড়, মহকুমা আদালত, বিডিও অফিস, সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল চত্বর, রামকৃষ্ণপল্লি মোড় এলাকার পথকুকুরদের দুধ, বিস্কুট খাইয়েছেন। সুরজিৎ বলেন, ‘আমরা মাঝেমধ্যেই এলাকার পথকুকুরদের খাওয়ানোর ব্যবস্থা করে থাকি। এদিনও শিবরাত্রির জন্য ওদের দুধ, বিস্কুট খাওয়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিলাম।’ এদিন কুকুরগুলোকে মোট ৮ লিটার দুধ এবং ১০ প্যাকেট বিস্কুট খাওয়ানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

বাস টার্মিনাস এলাকায় দাঁড়িয়ে ওঁদের এই কর্মসূচি দেখছিলেন তীর্থঙ্কর কুণ্ডু। তিনি বলেন, ‘পুজোতে দুধের অপচয় না করে সেই দুধ অন্যকে খাওয়ানোর কথা সিনেমা এবং সামাজিক মাধ্যমে দেখেছিলাম। কিন্তু কখনও বাস্তবে এই দৃশ্য চোখে পড়েনি।’ মানুষের মধ্যে এমন পরিবর্তন দেখে খুবই ভালো লেগেছে বলে তিনি জানান। বিষয়টি নিয়ে চণ্ডী মজুমদার নামে শহরের এক পুরোহিতকে যখন প্রশ্ন করা হয় তখন নিজের উচ্ছ্বাস গোপন করেননি তিনিও। তাঁর কথায়, ‘শিবরাত্রির দিন এর থেকে ভালো কাজ আর কিছু হতে পারত বলে আমার মনে হয় না। যারা রাস্তাঘাটে থাকে, খেতে পায় না আজকের দিনে সেই সব পথকুকুরগুলোকে খাইয়ে ওই তরুণেরা ভগবানের সেবা করার সমতুল্য কাজই করেছেন।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *