Islampur | ইসলামপুরে দেহব্যবসায় প্রভাবশালী-যোগ

Islampur | ইসলামপুরে দেহব্যবসায় প্রভাবশালী-যোগ

ভিডিও/VIDEO
Spread the love


অরুণ ঝা, ইসলামপুর : উদ্ধারের পর ৪১ জনের ঠাঁই হয়েছে রায়গঞ্জে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির সেফ হোমে। প্রত্যেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। খাওয়াদাওয়া ঠিকমতো করছে না। তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখছেন চিকিৎসকরা। প্রথম দিন যৌনপল্লি থেকে উদ্ধার হওয়া এক নাবালিকার সন্তান রয়েছে। দ্বিতীয় দিনে পাওয়া ২২ জনের মধ্যে একজন গর্ভবতী।

অধিকাংশের পরিবারের আর্থিক দুর্বলতাকে হাতিয়ার করে নিয়ে আসা হয়েছিল এখানে। বিক্রি করা হয়েছিল তিন থেকে পাঁচ লক্ষ টাকায়। ধৃত ছয় দালালের বাড়ি ইসলামপুরে। এদের মূল কাজ ছিল পাচার হওয়া মেয়েদের কখন শহরে আনা হবে, তাদের কোথায় রাখা হবে, কতদিন এখানে থাকবে ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করা। অভিযোগ, দিনে গড়ে ১০ থেকে ১২ জন যৌন হেনস্তা চালাত মেয়েগুলির ওপর। লেনদেন মূলত হত ওই দালালদের হাত ধরেই। মেয়েদের কপালে জুটত দু’বেলার খাবার। তাতেও কোপ পড়ত মাঝেমধ্যে আর কথার অমান্য হলেই মারধর।

কোটি কোটি টাকার নারী পাচারচক্রের কেন্দ্র হয়ে ওঠা ইসলামপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের জনপ্রতিনিধিরা তদন্তকারীদের আতশকাচের তলায় এসেছেন। বখরার টাকা পেয়ে ফুলেফেঁপে উঠেছেন আরও অনেকে। অভিযোগ, ইসলামপুর যৌনপল্লির নিয়ন্ত্রণ ছিল জোড়াফুল শিবিরের এক প্রভাবশালী নেতার হাতে। এই কারবারে অন্যতম শাগরেদ তাঁরই এক আত্মীয়। সেই ব্যক্তির দোকান রয়েছে ওই এলাকায়। দলের বড় মাথারাও এসব বিলক্ষণ জানতেন। পুলিশ সুপারের বক্তব্য, ‘আমরা তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ শুরু করেছি। এই অনৈতিক কাজে যে বা যারা যুক্ত থাকুক, সে যে রাজ্যেরই হোক না কেন, ছাড় পাবে না।’

গত সপ্তাহে নেপাল সীমান্তে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাহায্যে এক নাবালিকাকে উদ্ধার করেছিল এসএসবি। ধৃত উত্তর দিনাজপুর জেলারই বাসিন্দা। ইসলামপুরকে ট্রানজিট পয়েন্ট বানিয়ে ভিনরাজ্য থেকে পাচার করা নাবালিকাদের অন্য জায়গায় পাঠানো হয় কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে ‘সবটাই তদন্তের আওতায়’ বলেছেন পুলিশ সুপার। উদ্ধার অভিযানে পুলিশের সঙ্গী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তরফে ঋষি কান্তর কথা, ‘মেয়েগুলির স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরও অনেকটা সময় লাগবে।’

এই যৌনপল্লির সিংহভাগ অংশ ইসলামপুরের পুর চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক কানাইয়ালাল আগরওয়ালের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে পড়ে। বছরের পর বছর ধরে চলা অবৈধ কারবার সম্পর্কে তিনি অন্ধকারে রইলেন কীভাবে, সেই প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা। তবে কি ‘কাছের লোক’-কে বাঁচাতে চোখ খোলা থাকলেও কিছু দেখেননি তিনি? কানাইয়ার অবশ্য দাবি, ‘যারা দোষী, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ কড়া পদক্ষেপ করবে, এটুকু বলতে পারি।’

এদিকে রাজ্যের আইন ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী বিরাজ বিশ্বাসের যুক্তি, ‘সরকার বদল হতেই নারী পাচারের বিরুদ্ধে প্রশাসন পদক্ষেপ করতে শুরু করেছে। ইসলামপুর সহ জেলাজুড়ে পাচারচক্র ভাঙতে বিভিন্ন এজেন্সি কাজ করছে। তৃণমূলের নেতারা এসবে যুক্ত থাকলে তাদের জেলে যেতেই হবে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *