উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: অতিরিক্ত ফি আদায়, অথচ নিয়মিত ক্লাস না নেওয়া—এমনই একাধিক গুরুতর অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠল ইসলামাবাদের সারহাদ বিশ্ববিদ্যালয়। সোমবার ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের জমে থাকা চাপা ক্ষোভের এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ব্যানার, প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে মুখে জোরদার স্লোগান তুলে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ছাত্রছাত্রীরা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ডঃ আইনা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেন। তবে শিক্ষার্থীরা তাঁর সঙ্গে কোনও প্রকার আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানান। অভিযোগ উঠেছে, এরপরই ডঃ আইনা তাঁর স্বামীকে ফোন করে ডেকে পাঠান, যিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন কর্মরত আধিকারিক।
সেনা আধিকারিক ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আন্দোলনরত পড়ুয়াদের ছত্রভঙ্গ করতে উক্ত সেনাকর্তা মারাত্মক বলপ্রয়োগ করছেন। এক পর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়ে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করেন এবং কয়েকজনের জামার কলার ধরে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যান। চরম উত্তেজনার মাঝে হঠাৎই তিনি পকেট থেকে পিস্তল বের করে শূন্যে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়েন। যদিও ওই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি উত্তরবঙ্গ সংবাদ।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট দাবি, কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা এবং লাগামহীন ফি আদায়ের প্রতিবাদ জানাতে গিয়েই তাঁদের এই হিংসাত্মক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হল। বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কোনও সমাধান না পাওয়ায় তাঁরা এই কঠোর আন্দোলনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র ইসলামাবাদজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

