উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের আবহে প্রকাশ্যে বিস্ফোরক তথ্য। এক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন বিমান হামলা (US strikes) থেকে নিজেদের সামরিক সম্পদ রক্ষা করতে পাকিস্তানের (Pakistan) সাহায্য নিয়েছে তেহরান। গত এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরপরই ইরানের বেশ কিছু সামরিক বিমান (Iranian Plane) পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির কাছে অবস্থিত ‘নূর খান’ (Nur Khan) বিমান ঘাঁটিতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পাকিস্তান নিজেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একনিষ্ঠ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরলেও গোপনে তারা ইরানের যুদ্ধবিমান সহ অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামকে নিজেদের ঘাঁটিতে আশ্রয় দিয়েছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই মার্কিন রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন যে, এই তথ্য সঠিক হলে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। পাকিস্তান অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে যে, জনবহুল এলাকায় অবস্থিত নূর খান ঘাঁটিতে এমন কিছু লুকিয়ে রাখা অসম্ভব।
একইভাবে ইরানের বেশ কিছু অসামরিক বিমান আফগানিস্তানেও পাঠানো হয়েছিল বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। বিশেষ করে ‘মাহান এয়ার’-এর একটি বিমান কাবুল থেকে সরিয়ে হেরাত বিমানবন্দরে রাখা হয়েছিল। যদিও তালিবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এই দাবি খারিজ করে দিয়েছেন। পাকিস্তান বর্তমানে এক কঠিন কূটনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবিলা করছে, যেখানে একদিকে মার্কিন সম্পর্ক রক্ষা এবং অন্যদিকে তেহরান ও তাদের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ চিনের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখার চাপ রয়েছে। এর মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
