উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে ফের চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে (Iran US tensions)। আমেরিকা নতুন করে কোনও হুমকি দিলে তার উপযুক্ত ও ‘ধ্বংসাত্মক’ জবাব দেওয়া হবে বলে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, পিছিয়ে থাকতে নারাজ ট্রাম্প প্রশাসনও। ইরানের উপর ইতিহাসের ‘সবচেয়ে কঠোর’ আর্থিক নিষেধাজ্ঞা চাপানোর হুশিয়ারি দিয়েছে আমেরিকা। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এই নতুন কৌশলের মাধ্যমেই দেশটির উপর চাপ সৃষ্টি করে নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করা হবে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট স্পষ্ট জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই নতুন নিষেধাজ্ঞার সমস্ত খুঁটিনাটি জনসমক্ষে ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, যে সমস্ত দেশ ইরানকে আর্থিক বা অন্য কোনও উপায়ে সাহায্য করবে, তাদেরও এর পরিণাম ভোগ করতে হবে।
প্রায় ছয় মাস ধরে চলা আমেরিকা-ইজরায়েল ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ইতিমধ্যেই তেহরানের অর্থনীতি ধুঁকছে। বিশেষ করে তেল পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। তা সত্ত্বেও পরিস্থিতি প্রশমিত হওয়ার পরিবর্তে হুঙ্কার ও পাল্টা হুঙ্কারে আরও জটিল আকার ধারণ করছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি জানিয়েছেন, যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে এবং একাধিক ক্ষেত্রে পাল্টা জবাব দিতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত।
ইরান ও আমেরিকার মধ্যে এখনও কোনও সুনির্দিষ্ট চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। এই প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার জানান, ইরান এখনও ‘সঠিক চুক্তি’ করার জন্য প্রস্তুত নয়। ওয়াশিংটন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পুরো পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।
হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “এই গোটা অঞ্চলের উপর আমাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। প্রণালীটির অনেকটা ভিতরের স্থলভাগও এর আওতায় রয়েছে। তাই তারা চুক্তি করতে চাইবে, কিন্তু আমার মতে তারা এখনও সঠিক চুক্তি করার জন্য প্রস্তুত নয়।” দক্ষিণ ক্যারোলিনার মার্টল বিচের একটি সমাবেশেও ট্রাম্প পুনরায় স্পষ্ট করে দেন যে, ইরানকে কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না।
আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার নতুন হুমকির জেরে শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ফের বৃদ্ধি পেয়েছে। এই দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে:
- ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ৯৪.৩৯ ডলারে পৌঁছেছে।
- ডব্লুটিআই (WTI) ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল দাঁড়িয়েছে ৮৭.০৬ ডলারে।
বিশ্ব বাজারে জ্বালানির দাম লাগাতার বাড়তে থাকলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারতের বাজারেও। দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে।

