উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: সুইৎজারল্যান্ডের মাটিতে আয়োজিত আমেরিকা ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের শান্তিবৈঠক (Iran-US peace talks) রবিবার উত্তপ্ত পরিস্থিতির সাক্ষী থাকলেও, আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে ইরানের প্রতিনিধিদল সাময়িকভাবে বৈঠক কক্ষ ত্যাগ করলেও, পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সোমবার দ্বিতীয় দফার আলোচনা ঘিরে এখন নতুন করে তৈরি হয়েছে জল্পনা।
রবিবার দীর্ঘ ৮০ মিনিটের টানটান আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন আমেরিকা ও ইরানের প্রতিনিধিরা। মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় ছিল কাতার ও পাকিস্তান। আলোচনার মূল এজেন্ডা ছিল হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা। প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান—ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মাসুদ পেজেশকিয়ান—ভার্চুয়াল মাধ্যমে একটি ১৪-দফা সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন। আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল সেই চুক্তির রূপরেখা কীভাবে কার্যকর করা যায়, তা নির্ধারণ করা।
তবে বিঘ্ন ঘটে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের জেরে। আলোচনা চলাকালীনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) একের পর এক আক্রমণাত্মক মন্তব্য ও যুদ্ধের হুঁশিয়ারির জেরে বৈঠকটি ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়। এই বক্তব্যের পরেই ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ প্রতিবাদ জানিয়ে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান। কালিবাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।
এই পরিস্থিতিতে লেবানন (Lebanon) ও ইজরায়েলের (Israel) চলমান সংঘর্ষ আলোচনার প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান অভিযোগ করেছে, ইজরায়েলি আগ্রাসন না থামলে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব নয়। পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতা ভান্স। তিনি বিষয়টিকে ‘অগোছালো’ বলে অভিহিত করলেও, বৃহত্তর আঞ্চলিক স্বার্থ রক্ষায় ওয়াশিংটন দায়বদ্ধ বলে আশ্বস্ত করেছেন।
সূত্রের খবর, ইরানের প্রতিনিধিরা সরাসরি আলোচনা ত্যাগ করলেও কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন মহলে দফায় দফায় আলোচনা চলেছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে সোমবার ফের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

