উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: উত্তাল ইরান। গত দু’সপ্তাহে সে দেশে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা দু’হাজার ছাড়িয়েছে (Iran Protests)। এই পরিস্থিতিতে তেহরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বন্দি বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড বা ফাঁসি দেওয়া হলে ইরানকে ‘ভয়াবহ পরিণতির’ মুখে পড়তে হবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরই পালটা আক্রমণ শানিয়েছে তেহরানও। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি (Ali Larijani) সরাসরি ট্রাম্প এবং ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে (Benjamin Netanyahu) ইরানিদের ‘প্রধান খুনি’ হিসেবে তোপ দেগেছেন (Important Killers)।
গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে ইরানে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। আন্দোলনকারীদের সমর্থনে একের পর এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আপাতত ইরান প্রশাসনের সঙ্গে কোনও আলোচনায় বসবে না ওয়াশিংটন। উলটে বিক্ষোভকারীদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়ে সব ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন ট্রাম্প। ইরানিদের সমস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি দখলের আহ্বানও জানিয়েছেন। এমনকি আন্দোলনকারীদের ওপর দমননীতি চালালে ‘কঠোর পদক্ষেপ’ করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, ‘ওরা যদি কাউকে ফাঁসিতে ঝোলায়, তবে এমন কিছু ঘটবে যা কেউ কল্পনাও করতে পারবে না।’
আর এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই লারিজানি এক্স হ্যান্ডেলের একটি পোস্টে লেখেন, ‘আমরা ইরানের জনগণের প্রধান হত্যাকারীদের নাম ঘোষণা করছি। ১—ট্রাম্প, ২- নেতানিয়াহু।’ তাঁর দাবি, ওয়াশিংটন এবং তেল আভিভ যৌথভাবে ইরানে অস্থিরতা উসকে দিচ্ছে।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সৈয়দ ইরাভানিও মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে উৎসাহিত করা এবং হিংসায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন। সেই সঙ্গে এটিকে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলেও অভিহিত করেছেন। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে লেখা এক চিঠিতে ইরাভানি বলেন, ‘সাধারণ ইরানি নাগরিক, বিশেষ করে তরুণদের মৃত্যুর জন্য আমেরিকা ও ইজরায়েল দায়ী।’
এক মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভে এখনও পর্যন্ত ২,৪০৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন ইরানে। যার মধ্যে ১২ জন নাবালক। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৮ হাজারেরও বেশি মানুষকে। ইরানের প্রশাসন এই বিশৃঙ্খলার জন্য বিদেশি মদতকে দায়ী করলেও, সাধারণ মানুষ মূলত অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও রাজনৈতিক দমনের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন।
এদিকে, ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া। মস্কোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যারা ২০২৫ সালের জুন মাসের ঘটনার পুনরাবৃত্তি করতে চাইছে, তাদের মনে রাখা উচিত এর ফল গোটা বিশ্বের জন্য বিপর্যয়কর হবে। হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব ধরনের বৈঠক বাতিল করেছেন ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এখন আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
