উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল অন্ধ্রপ্রদেশ। এদিন হায়দরাবাদ থেকে বেঙ্গালুরুগামী একটি ভলভো বাস দু’চাকার গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষের পর বিধ্বংসী আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় কমপক্ষে ১২ জন যাত্রী জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা গিয়েছেন। শুক্রবার ভোররাতে অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুল জেলার উল্লিন্দাকোন্ডার কাছে ন্যাশনাল হাইওয়ে ৪৪ (NH-44)-এ এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ সূত্রে খবর, বাসটিতে চালক ও কর্মী সহ মোট ৪০ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন। ভোর রাত ৩টা ৩০ মিনিট নাগাদ বাসটি একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা মারে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দু’চাকার গাড়িটি বাসের পেটের নিচে আটকে যাওয়ায় ঘর্ষণে স্ফুলিঙ্গ তৈরি হয়, যা দ্রুত অগ্নিকাণ্ডের রূপ নেয়।
দুর্ঘটনার সময় বাসের অধিকাংশ যাত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, আগুন মাত্র দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যে গোটা বাসে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে যাত্রীদের বেরিয়ে আসার সুযোগ সীমিত ছিল। ঘটনাপ্রসঙ্গে টিডিপি সাংসদ বাইরেডি শবরী বলেন, “আমরা ১৯ জনকে বাঁচাতে সক্ষম হয়েছি, কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই বাসটি বিস্ফোরিত হওয়ায় বাকিদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।” তিনি আরও জানান, দগ্ধ দেহগুলি এতটাই বিকৃত হয়ে গিয়েছে যে, তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কুর্নুলের পুলিশ সুপার (SP) বিক্রান্ত পাতিল জানিয়েছেন, এসি বাস হওয়ার কারণে যাত্রীদের জানালা ভেঙে বাইরে আসতে হয়। তিনি বলেন, “যারা কাঁচ ভাঙতে পেরেছিলেন, তারা নিরাপদ রয়েছেন।” দুর্ঘটনার পর পরই বাসের চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে। ফরেনসিক (FSL) দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ অনুসন্ধানের কাজ চলছে। দুর্ঘটনার পর ১৫ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জন সরকারি হাসপাতালে এবং ৩ জন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিহতদের শনাক্তকরণের প্রচেষ্টা চলছে।
এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তিনি বলেন, “আমি শোকাহত পরিবারগুলির প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।”
অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডুও গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের সবরকম সরকারি সাহায্যের আশ্বাস দেন।
