উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ বিশ্বব্যাঙ্কের গঠিত ‘কোর্ট অফ আরবিট্রেশন’ বা সালিশি আদালতের সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি (Indus Waters Treaty) সংক্রান্ত রায় কঠোরভাবে খারিজ করে দিল ভারত (India)। নয়াদিল্লির তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ওই সালিশি আদালতটি “সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে গঠিত” এবং ভারতের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ওপর নাক গলানোর কোনো এক্তিয়ার এই সংস্থার নেই। পাশাপাশি, এই চুক্তি স্থগিত রাখার বিষয়ে ভারতের সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে বলেও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।
সোমবার বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) তরফে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে বিশ্বব্যাঙ্ক এই সালিশি আদালত গঠন করেছে। তাই এই তথাকথিত আদালতের কোনো রায় বা নির্দেশকে আইনিভাবে কখনোই স্বীকৃতি দেয়নি ভারত। এমনকি এই বেআইনি প্যানেলের সামনে অতীতেও কখনো হাজিরা দেয়নি নয়াদিল্লি এবং এদের কোনো সিদ্ধান্ত বা কার্যপ্রণালীকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
এর আগে, সালিশি আদালতের তরফে দাবি করা হয়েছিল যে, সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তিটি এখনও পুরোপুরি বলবৎ রয়েছে এবং ভারত একতরফাভাবে তা স্থগিত বা বাতিল করতে পারে না। পাশাপাশি, জম্মু ও কাশ্মীরে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজে ভারতকে সীমা বজায় রাখতে বলা হয়েছিল। তবে এই সমস্ত নির্দেশ উড়িয়ে দিয়ে ভারতের স্পষ্ট বক্তব্য, দেশের অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামো এবং সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ওপর হস্তক্ষেপ করার কোনো আইনি অধিকার এই সালিশি প্যানেলের নেই। ভবিষ্যতে এই আদালত যাই রায় দিক না কেন, ভারতের চলমান বা পরিকল্পনাধীন প্রকল্পগুলির ওপর তার বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়বে না।
উল্লেখ্য, পহেলগাঁওয়ের পৈশাচিক জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটলে ভারত সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তিটি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর থেকেই পাক নেতৃত্ব এই জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত রাখাকে ‘যুদ্ধের শামিল’ বলে প্রোপাগান্ডা চালিয়ে আসছে। তবে সমস্ত চাপকে উপেক্ষা করে ভারত নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছে এবং বিদেশ মন্ত্রক পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত রাখার পূর্বের সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে এবং তা বলবৎই থাকবে।

