উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কালো মেঘ এবং অপরিশোধিত তেলের অগ্নিমূল্য— আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এই প্রতিকূল পরিবেশকে সম্পূর্ণ পাশ কাটিয়ে মোদির জমানায় ফের একবার অর্থনৈতিক অবস্থান শক্ত করল ভারত। চলতি ২০২৬-’২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে (Q1 GDP 2026) (এপ্রিল থেকে জুন) দেশের জিডিপি (GDP) বৃদ্ধির হার (India GDP development) ৭.৮ শতাংশ ছুঁয়েছে, যা সমস্ত অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অনুমানকে অনেকটাই ভুল প্রমাণ করেছে।
চলতি বছরের গোড়ার দিকে শুরু হওয়া ইরান সংকট বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছিল। অপরিশোধিত তেলের বাজার (crude oil costs) ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেছিল যে ভারতের উৎপাদন ও পরিবহণ ক্ষেত্র বড়সড় সংকটের মুখে পড়বে। কিন্তু সমস্ত আশঙ্কাকে ভুল প্রমাণিত করে গত বছরের জুন ত্রৈমাসিকের ৬.৯ শতাংশের তুলনামূলক বৃদ্ধিকে ছাপিয়ে গেছে বর্তমান পরিসংখ্যান। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাপ ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কাঁটা থাকা সত্ত্বেও দেশের অভ্যন্তরে শক্তিশালী চাহিদা এবং সরকারের মূলধনী ব্যয় (capital expenditure) এই সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
জিডিপির এই জোরালো পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসতেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে তিনি সাফ জানান যে সমস্ত নেতিবাচক পূর্বাভাস ভুল প্রমাণিত করে ভারতের অর্থনীতি ফের নিজের শক্ত ভিতের প্রমাণ দিয়েছে। প্রতিরক্ষা এবং মহাকাশ গবেষণার মতো ক্ষেত্রগুলিতে বেসরকারি পুঁজির অবাধ প্রবেশ এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে আরও বেশি ত্বরান্বিত করেছে বলে মত অর্থনীতিবিদদের।
প্রথম ত্রৈমাসিকের এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স স্বস্তি দিলেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না বিশ্লেষকরা। আগামী দিনে পরিবহণ ও লজিস্টিকস খরচ বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে পরবর্তী ত্রৈমাসিকের পরিসংখ্যানের ওপর। তবে আপাতত বৈশ্বিক মন্দার বাজারে ভারতের এই অর্থনৈতিক বুস্ট বিশ্বমঞ্চে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

