উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ এবং সিন্ধু নদের জলবণ্টন—এই দুই ইস্যুতে পাকিস্তানের (Pakistan) সঙ্গে কোনওরকম আপস করবে না ভারত (India)। সম্প্রতি পাকিস্তানের একাধিক মন্ত্রীর কড়া বয়ানের জবাবে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়ে দিল, ১৯৬০ সালের ঐতিহাসিক সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি (Indus Waters Treaty) নিয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান অপরিবর্তিতই থাকছে। অর্থাৎ, ভারতের তরফ থেকে এই চুক্তি স্থগিত রাখার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা বহাল থাকছে।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাফ জানিয়েছেন, ভারতকে নিজের অবস্থানে অনড় থাকতে বাধ্য করেছে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “পাকিস্তানকে সবার আগে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে।” প্রসঙ্গত, পহেলগাঁও হামলার পর থেকেই ভারত এই জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত করে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্পষ্ট করে দেয় যে—‘রক্ত এবং জল কখনো একসঙ্গে বইতে পারে না’।
১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী:
- ভারতের প্রাপ্য নদীসমূহ: পূর্বমুখী শতদ্রু, বিপাশা এবং ইরাবতী।
- পাকিস্তানের প্রাপ্য নদীসমূহ: পশ্চিমমুখী সিন্ধু, চন্দ্রভাগা এবং বিতস্তা।
তবে পহেলগাঁও হামলার প্রতিবাদে ভারত কড়া পদক্ষেপ নিলে এই সমীকরণ বদলে যায়। ভারতের কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সিআর পাতিল সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে পাকিস্তানের দিকে সিন্ধুর জলপ্রবাহ পুরোপুরি আটকে দেওয়ার জন্য ভারত যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে।
ভারতের এই অনমনীয় মনোভাবের পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ সরাসরি ভারতের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধে যাওয়ার’ হুঁশিয়ারি দেন। অন্যদিকে, পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মাসুদিক মালিকও একধাপ এগিয়ে হুমকি দেন, “যারা আমাদের ভাগের জল দাবি করছে, আমরা তাদের হাত কেটে নেব।” তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও এই জল সংকটের জন্য কাঠগড়ায় তোলেন। ইসলামাবাদের এই সমস্ত কূটনৈতিক ও সামরিক হুমকিকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে ভারত বুঝিয়ে দিল, সন্ত্রাসবাদের রাস্তা না ছাড়লে দিল্লির জল-নীতিতে কোনও বদল আসবে না।

