উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ইরান-আমেরিকা সংঘাতের (Iran-US Battle) আবহে এবার আন্তর্জাতিক জলপথে চরম বিপত্তি। হরমুজ প্রণালীর কাছে ওমান উপকূলে হামলার শিকার হলো একটি ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ (Indian flagged ship hit)। হামলার অভিঘাতে জাহাজটি সমুদ্রের বুকে তলিয়ে গেলেও, অলৌকিকভাবে রক্ষা পেয়েছেন তার মধ্যে থাকা ১৪ জন ভারতীয় জাহাজকর্মী। ওমান উপকূলে এই হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে হামলাকারীদের কড়া বার্তা দিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।
বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, ৫৭ মিটার লম্বা এবং ১৪ মিটার চওড়া ভারতীয় যান্ত্রিক পালতোলা জাহাজটি সোমালিয়া থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শারজার দিকে যাচ্ছিল। বুধবার হরমুজ প্রণালীর (Strait of Hormuz) কাছাকাছি আসতেই আচমকা সেটির ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় জাহাজটি সম্পূর্ণ ডুবে যায়। তবে ওমানের উপকূলরক্ষী বাহিনীর তৎপরতায় ১৪ জন ভারতীয় নাবিককেই জীবিত উদ্ধার করে ওমানের ডিব্বা বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে এবং দ্রুত তাঁদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করছে নয়াদিল্লি।
বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন, “বাণিজ্যিক জাহাজ এবং অসামরিক নিরপরাধ নাবিকদের ওপর এই ধরনের হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। নৌপথের স্বাধীনতায় ব্যাঘাত ঘটানো এবার বন্ধ হওয়া দরকার।”
এই হামলার টাইমিং নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, বর্তমানে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ভারতে রয়েছেন। ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি যখন দিল্লিতে, ঠিক তখনই হরমুজের কাছে ভারতীয় জাহাজে হামলার নেপথ্যে কোনো বড় কূটনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও কারা এই হামলা চালিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ফেব্রুয়ারি মাস থেকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধকালীন সংঘাত চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন এই মুহূর্তে চিন সফরে ব্যস্ত, তখন হরমুজে জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা ভারতের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এই উত্তেজনার মাঝেই ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের দুটি বড় এলপিজি ট্যাঙ্কার ‘সাইমি’ এবং ‘এনভি সানশাইন’ সুরক্ষিতভাবে হরমুজ প্রণালী পার করে ভারতের গুজরাট ও নিউ মেঙ্গালুরু বন্দরের দিকে রওনা দিয়েছে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ভারতের বাণিজ্যিক সুরক্ষায় এই হামলা নতুন করে উদ্বেগের মেঘ তৈরি করল বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
