পুলকেশ ঘোষ, কলকাতা: উত্তরবঙ্গ মানেই বঞ্চনা আর পিছিয়ে পড়া, এই চেনা ধারণাটাকেই কার্যত এক ফুঁ-এ উড়িয়ে দিলেন কোচবিহারের দেবাশিস রায় (Cooch Behar)। তল্লিগুড়ি গ্রামের এক সাধারণ কৃষক পরিবারের ছেলে আজ ভারতীয় বায়ুসেনার (Indian Air Power) গর্বিত ফ্লাইং অফিসার। শনিবার হায়দরাবাদের এয়ারফোর্স অ্যাকাডেমি থেকে সাফল্যের সঙ্গে পাশ করার পর দেবাশিসের মাথায় যখন অফিসার পদের টুপি উঠল, তখন গর্বে ও আনন্দে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি বাবা বিক্রম রায়।
চাষবাস করেই সারাজীবন কাটিয়ে দিয়েছেন বিক্রমবাবু। তাঁর সর্বোচ্চ স্বপ্ন ছিল, ছেলে অন্তত সেনাবাহিনীর একটা চাকরি পাক। খাকি উর্দির বাইরে আকাশছোঁয়া নীল উর্দির স্বপ্ন দেখার সাহস বা সুযোগ, কোনওটাই তাঁর ছিল না। হায়দরাবাদ থেকে আবেগঘন গলায় তিনি জানালেন, তল্লিগুড়ি হাইস্কুলের বরাবর ফার্স্ট বয় দেবাশিস পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার সঙ্গে জমিতে চাষের কাজও করত। এরপর শিলিগুড়ি কলেজে ভূগোল নিয়ে পড়ার পর শুরু হয় আসল লড়াই। আশ্চর্যের বিষয় হল, দেবাশিস প্রথমে বায়ুসেনায় একজন সাধারণ ‘এয়ারম্যান’ হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু লক্ষ্য ছিল আরও উঁচুতে। তাই এয়ারফোর্স কমন অ্যাডমিশন টেস্ট ক্র্যাক করে আজ তিনি সোজা ফ্লাইং অফিসার। এই কঠিন লড়াইয়ে রাত জেগে পড়ার ব্যাপারে স্ত্রী অনুশ্রী যেভাবে দেবাশিসকে অবিরাম উৎসাহ জুগিয়েছেন, তা গর্বের সঙ্গে স্মরণ করেন শ্বশুর বিক্রম।
বংশে বা গোটা গ্রামে এই প্রথম কেউ বায়ুসেনার পাইলট হলেন। এয়ারফোর্স অ্যাকাডেমি থেকে পাশ করা ২০০ জন ক্যাডেটের মধ্যে নিজেদের গ্রামের দামাল ছেলেটিকে নিয়ে এখন রীতিমতো উৎসবে মেতেছে গোটা তল্লিগুড়ি। এবার থেকে গ্রামের মাথার ওপর দিয়ে নীল আকাশ চিরে কোনও বিমান গেলেই দেবাশিসের মায়ের হয়তো মনে হবে, ওই বুঝি আমার ছেলে যাচ্ছে! আপাতত গ্রামের আকাশছোঁয়া হিরোর ছুটিতে বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন সকলে।
