India vs Sri Lanka | কলম্বোয় ফলো অনের সিদ্ধান্ত বুমেরাং! জয় হাতছাড়া ভারতের, কঠিন হল টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল অঙ্ক

ব্লগ/BLOG
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে স্কোরবোর্ডে পাঁচশো রান তোলা মাত্রই ইনিংস ডিক্লেয়ার করেছিলেন ভারত অধিনায়ক শুভমান গিল (Shubman Gill)। এরপর প্রথম ইনিংসে অল্প রানের ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও শ্রীলঙ্কাকে ফলো অন করানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হয়ে দাঁড়াল। হাতের মুঠোয় থাকা জয় ফস্কে কলম্বো টেস্ট ড্র হতেই শ্রীলঙ্কাকে হোয়াইটওয়াশ করার সুযোগ হাতছাড়া করল ভারত। একই সঙ্গে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (WTC) ফাইনালে ওঠার অঙ্কটাও শুভমানদের জন্য হয়ে গেল অত্যন্ত জটিল।

প্রথম টেস্ট জিতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় টেস্টেও জয়ের দোরগোড়ায় চলে এসেছিল ভারতীয় দল। প্রথম ইনিংসে ধ্রুব জুরেলের (Dhruv Jurel) দুর্দান্ত শতরানের ওপর ভর করে দল ৫০০ রানের গণ্ডি পার করতেই ডিক্লেয়ারের ঝুঁকি নেন গিল। জবাবে ভারতীয় বোলারদের দাপটে শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংস গুটিয়ে যায় ২৯০ রানে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করেছিলেন ভারতীয় দল দ্বিতীয় ইনিংসে ফের ব্যাট করতে নামবে। তবে অধিনায়ক শুভমান বিপক্ষকে ফলো অন করানোর পথেই হাঁটেন।

কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে পালটা মার দিতে ভুল করেনি শ্রীলঙ্কা। পাসিন্দু সুরিয়াবন্দর ও কামিন্দু মেন্ডিসদের লড়াইয়ের পাশাপাশি সোনাল দিনুশার অনবদ্য শতরানে দ্বিতীয় ইনিংসে দুর্ভেদ্য হয়ে ওঠে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইন আপ। পরিস্থিতি সামাল দিতে অধিনায়ক শুভমান নিজে বল করতে এলেও তাতে শেষরক্ষা হয়নি। শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা ৪২৯ রান তুলে ম্যাচ ড্র করতে সক্ষম হয়।

ম্যাচ শেষে ফলো অনের সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ খুলেছেন ভারত অধিনায়ক। গিলের বক্তব্য, “সময়টা পেরিয়ে যাওয়ার পর এই নিয়ে অনেক কথাই বলা যায়। ওই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে যেটা সঠিক মনে হয় সেই সিদ্ধান্তই নেওয়া উচিত। পরে হয়তো সেই সিদ্ধান্তটা আমাদের অনুকূলে যায় না।” অর্থাৎ নিজের সিদ্ধান্তকে যুক্তিযুক্ত মনে করলেও ম্যাচ ড্র হওয়ায় হতাশা চেপে রাখেননি তিনি। তবে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আগামী সিরিজে ভালো খেলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার আশা এখনও বেঁচে রয়েছে বলে দাবি শুভমানের।

বাস্তব পরিস্থিতি অবশ্য ভারতের জন্য বেশ চিন্তার। এই ড্রয়ের ফলে ডব্লিউটিসি পয়েন্ট তালিকায় (WTC Factors Desk) পঞ্চম স্থানেই আটকে রইল ভারত। ১১টি টেস্টের মধ্যে ৫টি জয়, ৪টি হার এবং ২টি ড্র নিয়ে ভারতের ঝুলিতে রয়েছে ৬৮ পয়েন্ট। কিন্তু পয়েন্টের শতকরা হারে (PCT) বড় পতন ঘটেছে; ৫৩.৩৩ থেকে তা একধাক্কায় কমে দাঁড়িয়েছে ৫১.৫২-এ।

ফাইনালে ওঠার পথ এখন পাহাড়প্রমাণ কঠিন। ডব্লিউটিসি-র বর্তমান চক্রে ভারতের হাতে রয়েছে আর মাত্র ৭টি টেস্ট—আগামী নভেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২টি অ্যাওয়ে টেস্ট এবং ২০২৭ সালের শুরুতে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৫টি টেস্ট। ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে এই ৭টি ম্যাচের মধ্যে অন্তত ছ’টিতে জিততেই হবে।

বর্তমানে ১০ ম্যাচে ৮টি জয় ও ৮০% পিসিটি নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে প্যাট কামিন্সের অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার পিসিটি ৭৫% এবং তিন নম্বরে থাকা নিউজিল্যান্ডের পিসিটি ৭২.২২%। এমনকি ভারতের ঠিক উপরে চতুর্থ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ (৫৫.৫৬%)। শ্রীলঙ্কা ৩৩.৩৩% পিসিটি নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। এই জটিল সমীকরণের মুখে দাঁড়িয়ে শুভমান গিলের দল শেষ পর্যন্ত খেতাবি যুদ্ধে পৌঁছাতে পারে কিনা, সেটাই এখন দেখার।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *