উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে শোরগোল। ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত বাণিজ্যচুক্তি (India-US Commerce Deal Failure Purpose) ভেস্তে যাওয়ার নেপথ্যে কি তবে ব্যক্তিগত ইগো বা সমীকরণের অভাব কাজ করেছে? খোদ মার্কিন বাণিজ্যসচিব হাওয়ার্ড লুটনিকের (Howard Lutnick) সাম্প্রতিক একটি দাবি তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (Donald Trump) একটি ফোন না করার কারণেই শেষ মুহূর্তে ভেস্তে গিয়েছে বিশাল এই বাণিজ্যচুক্তি।
চূড়ান্ত ধাপেও কেন হোঁচট?
ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ শীর্ষস্তরীয় মার্কিন আধিকারিক হাওয়ার্ড লুটনিক একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে চুক্তির বয়ান প্রায় চূড়ান্তই হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাজের ধরন কিছুটা ভিন্ন। লুটনিকের ভাষায়, “গোটা চুক্তিটা প্রায় হয়েই গিয়েছিল। কিন্তু একটা বিষয় স্পষ্ট, এটা ওঁর (ট্রাম্প) ডিল ছিল। কেবল প্রেসিডেন্টকে একটা ফোন করতেন মোদি। কিন্তু উনি এটা করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেননি। মোদি ফোন করেননি।”
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, তারা ভেবেছিল ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স বা ভিয়েতনামের আগেই ভারতের সঙ্গে এই চুক্তি সেরে ফেলা যাবে। কিন্তু ভারতের দিক থেকে চূড়ান্ত স্তরে সেই ‘ব্যক্তিগত তৎপরতা’ না আসায় পরিস্থিতি বদলে যায়।
শুল্ক জট ও রাশিয়ার প্রভাব
ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর ভারতই প্রথম দেশগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল যারা বাণিজ্যিক সমঝোতায় আগ্রহ দেখায়। ভারত চেয়েছিল অধিকাংশ পণ্যের ওপর বসানো ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করুক আমেরিকা। কিন্তু রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি অব্যাহত রাখার বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি ওয়াশিংটন। ফলে শুল্ক প্রত্যাহারের বদলে তা বহাল থাকে।
ভবিষ্যতে কি আর আশা আছে?
ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির (India-US Commerce Deal) ভবিষ্যৎ নিয়ে লুটনিক যে উত্তর দিয়েছেন, তা দিল্লির জন্য যথেষ্ট উদ্বেগের। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকা আগে যে শর্তে চুক্তিতে রাজি হয়েছিল, সেখান থেকে তারা পিছিয়ে এসেছে। আপাতত এই চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন আর ভাবছে না। অর্থাৎ, নিকট ভবিষ্যতে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক খুব একটা সহজ হচ্ছে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
ভারতের মতো বিশাল বাজারের সঙ্গে চুক্তি ভেস্তে যাওয়াটা দক্ষিণ এশিয়ায় আমেরিকার প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রেও বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। এখন দেখার, দিল্লির পক্ষ থেকে এই বিস্ফোরক দাবির কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসে কি না।
