উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর বুকে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর অভিমুখে জোরালো বিক্ষোভ দেখাল বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট (INDIA Bloc protest)। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকা রণক্ষেত্র রূপ নেয়। এদিন সকালে সংসদের মকর দ্বার থেকে মিছিল শুরু করেন বিরোধী সাংসদরা। হাতে তেরঙ্গা পতাকা এবং ‘সেভ ডেমোক্র্যাসি’ লেখা ব্যানার নিয়ে তাঁরা নির্বাচন সদনের দিকে এগোতে থাকেন। তবে পুলিশি ব্যারিকেডের মুখে পড়ে মিছিলের গতি থমকে যায় এবং শুরু হয় তীব্র ধস্তাধস্তি।
নির্বাচন কমিশন ভবনের কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই নিরাপত্তা বাহিনী ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকে দেয়। পুলিশের এই পদক্ষেপে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিরোধী নেতৃত্ব। ব্যারিকেডের ওপর উঠে পড়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি (Rahul Gandhi)। পুলিশি বাধার মুখে নীতি আয়োগের ঠিক সামনেই রাস্তায় বসে পড়েন রাহুল, প্রিয়াংকা, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলের প্রতিনিধিরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামে দিল্লি পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স। একে একে রাহুল, প্রিয়াংকা এবং তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডেরেক ও’ব্রায়েনকে আটক করে পুলিশ। যদিও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। আটক হওয়ার পর রাহুল গান্ধি ও অন্য নেতারা আকাশবাণী ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে সেখানেও অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েন।
মূলত ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করেই এই প্রতিবাদের সূত্রপাত। বিরোধী শিবিরের জোরালো অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার জেরে বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার বড়সড়ো আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগ এনে সরাসরি জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ দাবি করেছে জোটের শরিকরা। সম্প্রতি এই সংক্রান্ত ফর্ম ৬ ফর্মে বদল আনা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেও শুনানি হয়েছে। আদালত নির্বাচন কমিশনের পদ্ধতি খতিয়ে দেখার কথা বললেও এই মুহূর্তে সিইসিকে কাজ থেকে বিরত রাখার কোনো নির্দেশ দেয়নি। আদালতের এই পর্যবেক্ষণের পরেই বিরোধীরা আন্দোলন আরও তীব্র করার সিদ্ধান্ত নেয়।
মঙ্গলবারের এই কর্মসূচিতে সমস্ত বিরোধী দলের উপস্থিতি এক সূত্রে গাঁথা না হলেও তৃণমূল ও কংগ্রেসকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই চালাতে দেখা গিয়েছে। তবে ডিএমকে এবং আম আদমি পার্টি এই দিনের মিছিলে অংশ নেয়নি। বিরোধী শিবির সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই বিক্ষোভ কেবল এক দিনের নয়। আগামীদিনে আন্দোলনকে আরও বড় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে একটি জনসভার পাশাপাশি ২৫ ও ২৬ নভেম্বর ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। এমনকি আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনেও এই ইস্যুকে সামনে রেখে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট বা অপসারণ প্রস্তাব আনার কথা ভাবছে বিরোধী জোট। সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

