কিশনগঞ্জ: আইসক্রিম বিক্রির সামান্য টাকার ভাগ চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। কিশনগঞ্জের কোচাধামন থানা এলাকায় ১২ বছরের এক কিশোরকে পিটিয়ে এবং গলায় তার জড়িয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল এক আইসক্রিম বিক্রেতার বিরুদ্ধে (Ice cream vendor arrested)। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং খুনে ব্যবহৃত সামগ্রী ও প্রমাণ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত আইসক্রিম বিক্রেতা বাদশাহ রিয়াসত জেলার বোহিতা গ্রামের বাসিন্দা। সে ঠেলাগাড়িতে করে আইসক্রিম বিক্রি করত। গত ১৮ আগস্ট সে আইসক্রিম বিক্রির উদ্দেশ্যে সারওগোরা গ্রামে যায়। ওই কিশোর উমর আলম (১২) তাকে আইসক্রিম বিক্রির কাজে সাহায্য করত। চুক্তি ছিল, ঠেলাগাড়ি ঠেলে সাহায্য করলে তাকে পারিশ্রমিক দেওয়া হবে।
সারাদিন রোদে পুড়ে আইসক্রিম বিক্রির পর বিকেলে হিসাবের সময় সামান্য কিছু টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া নিয়ে দু’জনের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, সেই আক্রোশেই বিক্রেতা বাদশাহ রিয়াসত কিশোর উমরকে বেধড়ক পিটিয়ে এবং গলায় তার জড়িয়ে খুন করে। এরপর অপরাধ ঢাকতে সে ৩২৭ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে সুন্দর বাড়ি দাতি গ্রামের একটি কালভার্টের নিচে মৃতদেহটি ফেলে চম্পট দেয়।
পরের দিন অর্থাৎ ১৯ আগস্ট সকালে স্থানীয় গ্রাম্য বাসিন্দারা কালভার্টের নিচ থেকে কিশোরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশকে খবর দেন। এরপর কিশনগঞ্জ পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনার তদন্তে নামে। মহকুমা পুলিশ আধিকারিক মনোজ কুমার সিং জানান, ঘটনাস্থলে খুনির ফেলে যাওয়া একজোড়া জুতো এবং আইসক্রিমের ঠেলাগাড়িটি পুলিশকে খুব দ্রুত অপরাধীকে শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ অভিযুক্ত বাদশাহ রিয়াসতকে গ্রেপ্তার করে। শনিবার সকালে আদালতের নির্দেশে ধৃতকে ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে কিশনগঞ্জ জেলে পাঠানো হয়েছে। সামান্য টাকার লোভে এক কিশোরের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে গোটা এলাকায় শোক ও চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

