উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেষ্কঃ ‘অপারেশন কাগার’-এর প্রেক্ষিতে একের পর এক আত্মসমর্পণের পর আবারও নতুন মুখ সামনে আনল নিষিদ্ধ কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া (মাওবাদী)। তেলেঙ্গানার গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, দলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক তিপ্পিরি তিরুপতি ওরফে দেবুজিই এখন ‘অভয়’ ছদ্মনামে দলের জনসংযোগ রক্ষাকারী প্রধান মুখ হিসাবে কাজ করছেন।
চলতি মাসের ১৬ অক্টোবর দলের তরফে ‘অভয়’-এর নামে দুটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে। একটিতে আত্মসমর্পণকারী নেতা মল্লোজুলা বেণুগোপাল রাও ওরফে সোনু এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অন্যটিতে ২৪ অক্টোবর সারা দেশে বনধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
গোয়েন্দাদের মতে, ‘অভয়’ নামটি আগে ব্যবহার করতেন সোনু নিজেই। এখন সেই নাম ব্যবহার করছেন দেবুজি, যিনি আগে মাওবাদীদের সশস্ত্র শাখা সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের প্রধান ছিলেন।
বিবৃতিতে সোনু ও অন্যান্য আত্মসমর্পণকারী নেতাকে ‘পেটি বুর্জোয়া’, ‘দক্ষিণপন্থী’, ‘বিপথগামী’, ‘বিশ্বাসঘাতক’, ‘দেশদ্রোহী’ ইত্যাদি বলে তিরস্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘দল কোনও অবস্থাতেই সশস্ত্র সংগ্রাম থেকে সরে আসবে না।’ বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, সোনু ২০১১ সাল থেকে ‘বিপ্লববিরোধী মনোভাব’ দেখাচ্ছিলেন। দল বহুবার তাঁকে সমালোচনার মাধ্যমে ‘সংশোধনের’ চেষ্টা করলেও তিনি ‘প্রাণের ভয়’-এর কাছে হার মেনেছেন। ঘটনাচক্রে ওই ২০১১ সালেই নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হন তাঁর ভাই মল্লোজুলা কোটেশ্বর রাও ওরফে কিষেনজি।
দলীয় বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সোনু বা রূপেশ আত্মসমর্পণ করলেও দল আত্মসমর্পণ করবে না। অস্ত্র নামিয়ে রাখা চলমান বিপ্লবকে দুর্বল করে। শুধু তা-ই নয়, জনগণের অস্ত্র শত্রুর হাতে তুলে দেওয়া ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।’ ভারত রাষ্ট্রের কাছে ‘আত্মসমর্পণকারী বিচ্যুত কর্মী’দের জনতার আদালতে শাস্তি দেওয়ার ঘোষণাও করা হয় অন্য একটি বিবৃতিতে।
গোয়েন্দা সূত্র মতে, দেবুজিই এখন দলের একমাত্র উচ্চপর্যায়ের নেতা, যিনি পারেন এমন তীক্ষ্ণ বিবৃতি দিতে। তাঁর এই প্রকাশ্য বার্তাই ইঙ্গিত দিচ্ছে—সোনুদের আত্মসমর্পণের পরও মাওবাদীরা তাদের রাষ্ট্রবিরোধী ‘সশস্ত্র সংগ্রাম’ থামাতে রাজি নয়।
The submit Hyderabad | নয়া নেতৃত্বে লড়াইয়ে মাওবাদীরা appeared first on Uttarbanga Sambad.
