সায়ন দে, আলিপুরদুয়ার: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। আর সেই উৎসবে নতুন কিছু থাকবে না এমন হয় নাকি! সোমবার ছিল কালীপুজো। আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) শহরে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ একদল তরুণ রাস্তায় হেঁটে যাচ্ছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকের হাতেই একটা বড় পিভিসি পাইপ। পুজোয় পাইপ নিয়ে তাঁরা কোথায় চলেছেন তা ভেবে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করতেই তাঁরা জানালেন, সেটা নাকি একধরনের বাজি।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে এধরনের ‘হাতে তৈরি পাইপগান’। আর এই পাইপগানগুলি কীভাবে তৈরি হচ্ছে? কেনই বা হাওয়ার বেগে ছড়িয়ে পড়ল এই ধরনের ‘আজব বাজি’? খোঁজ নিয়ে জানা গেল, এটি পিভিসি পাইপে তৈরি। প্রয়োজন একটি ২.৫ ইঞ্চির পিভিসি পাইপ, ৪ ইঞ্চির রাউন্ড পিভিসি ক্যাপ, একটি পিভিসি কানেক্টর ও ক্যাপ। যা খোলা বাজারে সবসময়ই পাওয়া যায়। দাম সবমিলিয়ে দুশো থেকে আড়াইশো টাকার মধ্যেই। ব্যাস এটুকু জোগাড় করতে পারলেই আপনি বাড়িতে বসেই তৈরি করতে পারবেন পাইপগান। তবে তারপরও কিছু পদ্ধতি রয়েছে তা চালানোর জন্য। সেই পাইপের মাঝে করতে হয় একটা ফুটো। যা দিয়ে জল দিতে হয়। আর উন্মুক্ত দিকে দিতে হয় কার্বাইড। এবার বন্দুক আকৃতির সেই পাইপের শেষ প্রান্তে তৈরি করতে হয় গ্যাস লাইটার ঢোকানোর মতো জায়গা। ব্যাস! তৈরি হয়ে যাবে পাইপগান। অনেকে ‘পটেটো ক্যানন গান’ ও ‘কার্বাইড পাইপগান’ নামও দিয়েছেন সেটার। সে যাই হোক এই পাইপগান এবার ব্যাপক হিট।
কালীপুজোয় পাইপগান নিয়ে বেরিয়েছিলেন সাগ্নিক পাল। তাঁর কথায়, ‘খুবই সহজে এটি তৈরি করা যায়। শুধু বাজার থেকে কার্বাইড জোগাড় করতে হবে। এরপর পাইপের মুখে সেই কার্বাইডের টুকরো দিতে হবে। এর উপর সেই পাইপের ওপরের ছিদ্রে সামান্য জল দিয়ে কার্বাইডের টুকরোটিকে বের করে দিয়ে পাইপে লাগানো গ্যাস লাইটারে চাপ দিলেই তা তীব্র শব্দে আওয়াজ করবে।’
শুধু হাতে তৈরি নয়। অনেক দোকানেও বিক্রি হচ্ছে এই ট্রেন্ডিং ক্যানন গান। তবে দাম কিন্তু বেশ চড়া। নিউটাউন ও বাটা মোড়ের কয়েকটি দোকানে বিক্রি হচ্ছে সেসব। দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। কেউ কেউ তো ইউটিউব দেখেও তৈরি করে ফেলেছেন। এই যেমন সঞ্জিত সরকার বললেন, ‘কালীপুজোর কিছুদিন আগে থেকেই এধরনের বাজি মোবাইলে দেখছি। মোবাইল ঘেঁটে ও বাজার থেকে সরঞ্জাম এনে তৈরি করে ফেলেছি।’
এই ধরনের বন্দুক বা বাজি না ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক পার্থপ্রতিম ঘোষ। তাঁর কথায়, ‘জল ও কার্বাইডের বিক্রিয়ায় তৈরি হয় অ্যাসিটিলিন গ্যাস। সেই গ্যাস আবদ্ধ পাইপে জমাট হয়ে তাপের সংস্পর্শ এলে তীব্র শব্দ হয়। বন্দুকের নল থেকে বুলেট ছুড়লে যেমন আওয়াজ হয় ঠিক তেমনি শুনতে তার তীব্রতা। এটি পরিবেশবান্ধব নয় ও বিশেষ করে শিশুদের পক্ষে ক্ষতিকারক হতে পারে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েও সাময়িক আনন্দ অনুভূতির জন্য এমন জিনিস না ব্যবহার করাই শ্রেয়।’
কালীপুজোয় এধরনের নতুন আবিষ্কার আগে কখনও দেখা না যাওয়ায় এই পাইপগানে কিন্তু মজেছেন শহরবাসী। পাইপগানের জন্য কার্বাইডের বিক্রিও হঠাৎ বেড়েছে। বর্তমানে কিলোপ্রতি ১৪০ টাকায় বিকোচ্ছে ফল পাকানোর কার্বাইড।
