নাগরাকাটা: অভাবের সংসারেও যে মেধার জয়জয়কার হতে পারে, তা আরও একবার প্রমাণ করল নাগরাকাটার (Nagrakata) সুলকাপাড়ার রাসেল হক (Russell Hok)। এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় (WB HS Examination Outcome 2026) ৫০০-র মধ্যে ৪৬৯ নম্বর পেয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে এই পরিযায়ী শ্রমিকের ছেলে। শতাংশের হিসেবে প্রায় ৯৪ শতাংশ নম্বর পেয়ে এলাকার মুখ উজ্জ্বল করেছে সে। রাসেলের এই অভাবনীয় কৃতিত্বে এখন খুশির হাওয়া গোটা গ্রাম জুড়ে।
রাসেলের বাবা আজাজুল হক কেরলের এর্নাকুলামে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করেন। সংসারের টানে বছরের বেশিরভাগ সময়ই তাঁকে ভিনরাজ্যে কাটাতে হয়। বাড়িতে থাকেন তাঁর স্ত্রী রোশনা বেগম ও সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়া মেয়ে আফ্রিন বেগম। ২০২৪ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় জলপাইগুড়ির মেহরুন্নেসা হাই স্কুল থেকে ৭৭ শতাংশ নম্বর পেয়েছিল রাসেল। এরপর ধারদেনা করে ছেলেকে বীরভূমের সিউড়ির কবি নজরুল শিক্ষানিকেতন হাই স্কুলের একটি হস্টেলে রেখে পড়াশোনার ব্যবস্থা করেন আজাজুলবাবু। বাবা-মায়ের সেই চরম আত্মত্যাগ ও কষ্টের প্রতিদান দিয়েছে অত্যন্ত ভদ্র ও নম্র স্বভাবের রাসেল।
উচ্চ মাধ্যমিকে তার বিষয়ভিত্তিক নম্বরের তালিকাও বেশ নজরকাড়া। রাসেল বাংলায় ৯১, ইংরেজিতে ৯০, ভূগোলে ৯৬, ইতিহাসে ৯৬, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ৯১ এবং শিক্ষাবিজ্ঞানে ৯৫ নম্বর পেয়েছে। ফল প্রকাশের পর থেকেই এই কৃতী ছাত্রকে শুভেচ্ছা জানাতে তাঁর বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন এলাকার বিশিষ্টজন সহ বহু সাধারণ মানুষ।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে রাসেল জানায়, সে পরবর্তীতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করতে চায়। উচ্চশিক্ষার জন্য যাদবপুর অথবা প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা ভেবেছে সে। তবে তার চূড়ান্ত লক্ষ্য ডব্লিউবিসিএস (WBCS) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি আধিকারিক হওয়া। নিজের লক্ষ্যের কথা জানিয়ে ওই ছাত্র বলে, “সরকারি পদে থেকে মানুষের জন্য নানা কাজ করা যায়। সেকারণেই আমার লক্ষ্য ডব্লিউবিসিএস ক্র্যাক করা।” নিজের এই সাফল্যের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব বাবা-মা, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের দিয়েছে রাসেল।
