লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিদেশ সফর নিয়ে বিস্ফোরক প্রশ্ন তুলল বিজেপি। বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র বৃহস্পতিবার তীব্র আক্রমণ শানিয়ে দাবি করেন, গত ২২ বছরে রাহুল গান্ধী মোট ৫৪ বার বিদেশ সফর করেছেন এবং তাতে খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ কোটি টাকা। বিজেপির প্রশ্ন- এত বিপুল অর্থ এল কোথা থেকে?
সম্বিত পাত্রের কটাক্ষ, “রাহুল গান্ধীর আয় মাত্র ১১ কোটি টাকা, অথচ বিদেশ ভ্রমণে খরচ ৬০ কোটি! এই টাকার জোগান কে দিল?” তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষের সামনে স্বচ্ছতার কথা বললেও নিজের বিদেশ সফরের খরচ নিয়ে নীরব রয়েছেন রাহুল। বিজেপির দাবি, দেশের জনগণের জানার অধিকার রয়েছে- এই সফরের পিছনে কোনও বিদেশি লবি, কর্পোরেট গোষ্ঠী বা রহস্যময় অর্থস্রোত কাজ করেছে কি না। দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও বারবার বিদেশে চলে যাওয়ায় রাহুলের দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। পাত্রের বক্তব্য, “দেশ সংকটে থাকলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দিনরাত কাজ করেন, আর রাহুল গান্ধী উধাও হয়ে যান বিদেশে।”
আরও পড়ুন:
বিজেপি আরও অভিযোগ করেছে, প্রতিটি বিদেশ সফরে রাহুলের সঙ্গে একাধিক সহযোগীও যেতেন, ফলে খরচ আরও বেড়েছে। বিজেপির প্রশ্ন, এই সফরগুলির খরচ ব্যক্তিগতভাবে বহন করা হয়েছে, না কি কোনও বিদেশি সংস্থা বা অন্য কোনও উৎস থেকে অর্থ এসেছে। বিদেশি অর্থায়ন থাকলে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন বা এফসিআরএ-র বিষয়ও সামনে আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন পাত্র। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদেশ সফর কমানো-সহ একাধিক পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই মন্তব্যের সমালোচনা করেছিলেন রাহুল। তার পরেই বিজেপি এই পাল্টা আক্রমণ করে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক উসকে দিল।
পালটা কংগ্রেসের বক্তব্য, দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব এবং জ্বালানি জ্বালা থেকে নজর ঘোরাতেই রাহুল গান্ধীর বিদেশ সফরকে এত বড় ইস্যু হিসাবে তুলে ধরা হচ্ছে। কংগ্রেসের প্রচার বিভাগের প্রধান জয়রাম রমেশের দাবি, “সম্বিত পাত্র নিজের মন্ত্রিত্বের জন্য দরবার করতে রাহুল গান্ধীর ইস্যুটি তুলে এনেছেন। আসলে বিভিন্ন বিষয় থেকে নজর ঘোরাতেই এই ব্যক্তিগত আক্রমণ।” কংগ্রেস সাংসদ মাণিকম ঠাকুরের পালটা প্রশ্ন, বিদেশ সফর নিয়েই যদি প্রশ্ন তোলা হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়েও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হোক। এভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে আসলে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করছে বিজেপি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
