জরায়ুমুখের ক্যানসার (Cervical Most cancers) পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্য। সঠিক সময়ে এইচপিভি টিকাদান এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং সংক্রমণকে ক্যানসারের রূপ নেওয়া থেকে আটকাতে পারে। সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসাই অকালমৃত্যু রুখে সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি। লিখেছেন আইভিএফ বিশেষজ্ঞ ডাঃ প্রসেনজিৎকুমার রায়।
উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : ক্যানসার(Most cancers) আমাদের সময়ের অন্যতম বড় স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ হলেও সব ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধের বাইরে নয়। জরায়ুমুখের ক্যানসার এমন একটি রোগ, যা টিকাদান এবং নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব। হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) ভ্যাকসিন একুশ শতকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সাফল্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে এবং এটি বিশ্বজুড়ে নারীদের মনে নতুন আশা জুগিয়েছে।
হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) একটি সাধারণ ভাইরাস, যা মূলত যৌন সংস্পর্শের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। অধিকাংশ এইচপিভি সংক্রমণ কোনও উপসর্গ সৃষ্টি না করেই স্বাভাবিকভাবে সেরে যায়। তবে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এইচপিভি’র দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ— বিশেষত এইচপিভি ১৬ ও এইচপিভি ১৮, প্রায় ৭০ শতাংশ জরায়ুমুখের ক্যানসারের জন্য দায়ী।
এইচপিভি ভালভার, যোনি, মলদ্বার, পুরুষাঙ্গ এবং গলার ক্যানসারের সঙ্গেও সম্পর্কযুক্ত। তাই এই ভ্যাকসিন শুধু মেয়েদের জন্য নয়, ছেলেদের ক্ষেত্রেও সমান উপকারী। এইচপিভি ভ্যাকসিন(HPV Vaccine) শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরিতে উদ্দীপিত করে। এটি বিদ্যমান এইচপিভি সংক্রমণের নিরাময় করে না, তবে বিপজ্জনক ধরনের ভাইরাসের ভবিষ্যৎ সংক্রমণ ঠেকাতে কার্যকর সুরক্ষা দেয়।
যেসব দেশে এক দশকেরও বেশি আগে এইচপিভি টিকাদান শুরু হয়েছে, সেখানে তরুণীদের মধ্যে জরায়ুমুখের ক্যানসারের হার লক্ষণীয়ভাবে কমেছে। ভ্যাকসিন নেওয়ার আদর্শ বয়স ৯ থেকে ১৪ বছর অর্থাৎ যৌন জীবন শুরুর আগেই, যখন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সবচেয়ে ভালো সাড়া দেয়। এর সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো অত্যন্ত মৃদু— যেমন ইনজেকশনের জায়গায় সামান্য ব্যথা, অল্প জ্বর কিংবা সাময়িক ক্লান্তি। তবে ভ্যাকসিন নিলেও নিয়মিত স্ক্রিনিং করানো জরুরি। প্যাপ স্মিয়ার এমন একটি কার্যকর পরীক্ষা, যা ক্যানসারে রূপ নেওয়ার অনেক আগেই জরায়ুমুখের অস্বাভাবিক কোষ শনাক্ত করতে সক্ষম।
নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে জরায়ুমুখের ক্যানসার ও মৃত্যুহার অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। প্যাপ স্মিয়ারে অস্বাভাবিক কোষ পাওয়া গেলে, কোনও নারী উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এইচপিভিতে সংক্রামিত হলে (বিশেষত এইচপিভি ১৬ বা ১৮) অথবা ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় জরায়ুমুখ সন্দেহজনক মনে হলে কোলপোস্কোপি করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় বাজেটে ৯-১৪ বছর বয়সি মেয়েদের জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং ইউনিভার্সাল ইমিউনাইজেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে ধাপে ধাপে এইচপিভি টিকাদান চালু করা হয়েছে।
জরায়ুমুখের ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনটি স্তম্ভ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ— টিকাদান, স্ক্রিনিং ও সময়মতো চিকিৎসা। এইচপিভি ভ্যাকসিন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষা দেয়, প্যাপ স্মিয়ার ও এইচপিভি পরীক্ষা প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করে এবং কোলপোস্কোপি(Colposcopy) যে কোনও অস্বাভাবিকতায় নির্ভুল রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা নিশ্চিত করে।
এই তিনটি পদক্ষেপ একসঙ্গে বাস্তবায়িত হলে প্রতি বছর হাজার হাজার অকালমৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব।

