শ্বাসকষ্টের সমস্যায় যে কোনও বয়সের মানুষই ভুগতে পারেন। তবে সব শ্বাসকষ্ট এক নয়। অ্যাজমা বা হাঁপানি এবং ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি)— উভয় ক্ষেত্রেই কাশি, বুকে শাঁ শাঁ আওয়াজ এবং শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। রোগের বিস্তার এবং চিকিৎসার দিক থেকে এই দুই অসুখের মধ্যে স্পষ্ট ফারাক রয়েছে। লিখেছেন শিলিগুড়ির মণিপাল হাসপাতালের পালমনোলজি কনসালট্যান্ট ডাঃ রাজেশ আগরওয়াল(Dr Rajesh Agarwal)।
উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : শ্বাসনালির প্রদাহের কারণেই প্রধানত অ্যাজমা দেখা দেয়। অ্যালার্জি, দূষণ, শ্বাসযন্ত্রে সংক্রমণ, শরীরচর্চা কিংবা আবহাওয়ার বদল এর অন্যতম কারণ। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে ধূমপান, ঘরের ভেতরের দূষিত বাতাস, কাজের জায়গার ধুলোবালি বা রাসায়নিক ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকার ফলে ধীরে ধীরে সিওপিডি বাসা বাঁধে। সাধারণত শৈশবে বা অল্প বয়সেই অ্যাজমার সূত্রপাত ঘটে এবং এর সমস্যা মাঝে মাঝে দেখা দেয়। সিওপিডি প্রধানত বয়স্কদের আক্রমণ করে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর প্রকোপ ক্রমাগত বাড়তে থাকে।
অ্যাজমার ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, বুকে শাঁ শাঁ আওয়াজ বা কাশি নির্দিষ্ট কিছু কারণে বাড়ে এবং ওষুধ প্রয়োগে তা কমেও যায়। উলটোদিকে, সিওপিডিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের একটানা কফ-কাশি থাকে, শ্বাসকষ্ট ক্রমশ বাড়ে এবং সামান্য পরিশ্রমেও ক্লান্তি আসে। অনেকেই বয়সজনিত সমস্যা বা ধূমপানের প্রভাব ভেবে এইসব লক্ষণ অবহেলা করেন, ফলে চিকিৎসা শুরু হতে অযথা দেরি হয়।
চিকিৎসকরা রোগীর পূর্ব ইতিহাস, শারীরিক পরীক্ষা এবং স্পাইরোমেট্রির মতো পালমোনারি ফাংশন টেস্টের মাধ্যমে রোগ শনাক্ত করেন। এছাড়া বুকের বিভিন্ন পরীক্ষা বা ইমেজিং করিয়ে রোগের তীব্রতা বোঝার চেষ্টা করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে উপযুক্ত ওষুধ ও জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন এনে ফুসফুসকে বড়সড়ো জটিলতা থেকে রক্ষা করা যায়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ— একটানা কাশি, বুকে শাঁ শাঁ আওয়াজ, কোনও কারণ ছাড়াই শ্বাসকষ্ট হওয়া বা প্রায়ই শ্বাসযন্ত্রে সংক্রমণকে হালকাভাবে নেওয়া অনুচিত। এই ধরনের কোনওরকম উপসর্গ দেখা দিলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
দ্রুত রোগ নির্ণয় করা গেলে চিকিৎসকদের পক্ষে অ্যাজমা ও সিওপিডি-র পার্থক্য বোঝা সহজ হয়। এতে সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করে ফুসফুসের স্বাস্থ্য(Lung Well being Suggestions) যেমন দীর্ঘদিন ভালো রাখা যায়, তেমনই রোগীর জীবনযাত্রার মান ও চিকিৎসার সার্বিক ফলও উন্নত হয়।
বক্তব্য : ‘অ্যাজমা ও সিওপিডি সম্পূর্ণ আলাদা দুটি শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা। তাই দুটির চিকিৎসার পদ্ধতিও আলাদা। অ্যাজমার ক্ষেত্রে শ্বাসনালি সাময়িকভাবে সংকুচিত হয়, যা চিকিৎসার মাধ্যমে ঠিক করা সম্ভব। অন্যদিকে, সিওপিডিতে শ্বাসনালির ক্ষতি সাধারণত স্থায়ী এবং তা ক্রমশ বাড়তে থাকে। শারীরিক পরীক্ষা, লাং ফাংশন টেস্ট ও ইমেজিংয়ের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায়। সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা ও ভালো থাকা সম্ভব।’

