হিলি: সরকারি প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ করে নতুন বাড়ির স্বপ্ন নিয়ে ফিরছিলেন দুই বন্ধু। কিন্তু মাঝপথেই সব স্বপ্ন পিষে দিল ঘাতক লরির চাকা। বুধবার বিকেলে দক্ষিণ দিনাজপুর (Dakshin Dinajpur) জেলার হিলি (Hili) থানার ঠিক সামনে ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়কে এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় (Accident) মৃত্যু হলো সমীর হেমরম (২৪) নামে এক আদিবাসী তরুণের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হিলি থানা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পুলিশের সামনেই লরির বেপরোয়া গতি এবং ভুল লেন দিয়ে যাতায়াত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হিলি থানার পশ্চিম আপ্তৈর গ্রামের বাসিন্দা সমীর হেমরম ও তাঁর বন্ধু কৃষাণ রায় (২৫) বুধবার দুপুরে হিলি বিডিও অফিসে গিয়েছিলেন ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের আবেদনপত্র জমা দিতে। কাজ সেরে বিকেলে স্কুটারে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন তাঁরা। হিলি থানার মূল গেটের সামনে ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর একটি বাংলাদেশগামী চাল বোঝাই লরির সঙ্গে তাঁদের স্কুটারটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ধাক্কায় চালক কৃষাণ ছিটকে রাস্তার পাশে পড়ে গেলেও, পিছনে বসে থাকা সমীর লরির চাকার তলায় পিষ্ট হন।
রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে হিলি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা সমীরকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আহত কৃষাণ রায় প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছাড়া পেলেও বন্ধুর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ তিনি।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন:
দুর্ঘটনার পরই স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, ঘাতক লরিটি ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়কের উল্টো লেন ধরে আসছিল এবং থানার সামনে ডিভাইডারে বিপজ্জনকভাবে টার্নিং নিচ্ছিল। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, জাতীয় সড়কের একদিক পণ্যবাহী লরির দখলে থাকলেও কীভাবে একটি লরি উল্টো লেন ধরে প্রকাশ্য দিবালোকে থানার সামনে দিয়ে যাচ্ছিল? কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ কেন লরিটিকে আটকালো না? মৃন্ময় লাহা নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভের সুরে বলেন, “লরিটির বেপরোয়া মনোভাবের কারণেই আজ একটি প্রাণ অকালে ঝরে গেল।”
মৃতের বাবা লিপলাল হেমরম তাঁর একমাত্র ছেলের এই পরিণতিতে ভেঙে পড়েছেন। তিনি ঘাতক লরি চালকের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে হিলি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। হিলি থানার আইসি সুদীপ কুমার প্রধান জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ঘাতক লরিটিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
