হিলি: জলের ওপর বড়শির কাঁটার মতো ভাসছে সোনালি ফসল। পচন ধরছে পাট গাছের কাণ্ডে। সবজি চাষের জমির জমা জলে কোলাব্যাং ঘুরে বেড়াচ্ছে। গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টির জেরে এমনই দৃশ্য হিলিতে (Hili)। কিন্তু কেন এমন পরিস্থিতি? টানা কয়েকদিনের বৃষ্টির প্রভাব তো রয়েইছে, পাশাপাশি চিরির টইটুম্বুর হয়ে ওঠাও আরও একটি কারণ।
হিলি থানার ৩ নম্বর ধলপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত চিরি। শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামের মধ্য দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে দক্ষিণ জামালপুর এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে চলে গিয়েছে নদীটি। ভারতের মাটিতে ৮ কিলোমিটার প্রবাহের নদীটিতে গত কয়েক দশক ধরে সংস্কার করা হয়নি। ফলস্বরূপ নদীবক্ষে পলি জমে কমেছে নাব্যতা। বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে কচুরিপানার চাদর।
তার ওপর আবার বালুরঘাট-হিলি রেলপ্রকল্পের কাজে নদীবক্ষে দেওয়া হয়েছে বাঁধ। ফলে কয়েকদিনের বৃষ্টিতে হিলি এলাকায় চিরি জলধারণক্ষমতা হারিয়েছে। পাশাপাশি, বাংলাদেশ থেকেও শ্রীকৃষ্ণপুর ও উত্তর জামালপুর গ্রামে জল আসে। তাতেই হিলির শ্রীকৃষ্ণপুর, উত্তর জামালপুর, পূর্ব কালিকাপুর, খারুন, লস্করপুর, ধলপাড়া, গোঁসাইপুর, গাড়না, দক্ষিণ জামালপুর সহ একাধিক এলাকার জমিতে জল জমে গিয়েছে। প্রায় হাজার বিঘা চাষের জমি জলের তলায়। খারিফ মরশুমে মাথায় হাত কৃষকদের। ঘটনাটি নজরে আসতেই সরেজমিনে খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করেছে কৃষি দপ্তর ও ব্লক প্রশাসন।
বর্তমানে প্রত্যেকটি জমিতে দেড় থেকে দু’ফুট জল জমে রয়েছে। যা দেখিয়ে পূর্ব কালিকাপুর গ্রামের কৃষক মোতালেব আলি মণ্ডল বলেন, ‘এখানে ভারী বৃষ্টি, আবার বাংলাদেশ থেকে জল ঢুকছে। একেই দীর্ঘ বছর ধরে নদী সংস্কার হয়নি, তার মধ্যে বিপদ বাড়িয়েছে চিরি নদীতে রেলের বাঁধ। বের হতে না পারায় জল জমেছে জমিতে। পাকা বোরো ধান কাটা গেল না, পাট ও সবজি চাষও শেষ। আমরা পড়েছি ক্ষতির মুখে।’ গাড়না গ্রামের কৃষক জয়ন্ত বর্মন বলেন, ‘চিরি নদীবক্ষে কচুরিপানা জমে গিয়েছে। গোঁসাইপুরে নদীতে বিএসএফের কাঁটাতার থাকায় সেখানেও আবর্জনা জমেছে। নদী দিয়ে স্বাভাবিকভাবে জল বের হতে পারছে না। গাড়না ব্রিজের গেট থেকে খুবই মন্থরগতিতে জল নামছে। কয়েকদিন ধরে জল জমে থাকায় চাষাবাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।’
বাংলাদেশে যদি লাগাতার বৃষ্টি হয় এবং সেখান থেকে জল ঢুকতে থাকে, তবে এখানকার জমির জল নামবে না এবং তার ফলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে অনেকেরই আশঙ্কা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা তাকিয়ে প্রশাসনের দিকে। হিলি ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে একটি রিপোর্ট তৈরি করে তা পাঠানো হয়েছে জেলা প্রশাসনের কাছে। চিরি নদীর কয়েক জায়গা থেকে কচুরিপানা পরিষ্কার করার কাজ শুরু হয়েছে। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে।
