উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ হরিয়ানার আইপিএস অফিসার পূরণ কুমারের (Puran Kumar) আত্মহত্যার ঘটনায় এবার বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল করল হরিয়ানা সরকার। এই ঘটনায় দায়ের করা অভিযোগপত্রে নাম থাকার কারণে রোহতকের পুলিশ সুপার নরেন্দ্র বিজারনিয়ারকে (Narendra Bijarniya) তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন সুরিন্দর সিং ভুরিয়া। আপাতত অপসারিত বিজারনিয়াকে নতুন কোনও পদে বহাল করা হয়নি।
আইপিএস পূরণ কুমারের স্ত্রী তথা আইএএস অফিসার আমনীত পূরণ কুমার (Amneet Puran Kumar) পুলিশে একটি অভিযোগ দায়ের করার পরই এই পদক্ষেপ নিল সরকার। ওই অভিযোগে আমনীত হরিয়ানার ডিজিপি (DGP) শত্রুজিৎ কাপুর (Shatrujeet Kapoor), রোহতকের এসএসপি এবং অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে ১৩ জন অফিসারের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, পূরণ কুমার তাঁর সুইসাইড নোটে জাতিগত বৈষম্য ও ধারাবাহিক মানসিক নির্যাতনের কথা স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন। এই নোটটিকে ‘মৃত্যুকালীন জবানবন্দি’ হিসেবে গণ্য করার দাবি জানিয়েছেন আমনীত।
ঘটনাটি নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র চাপ সৃষ্টি হওয়ার পর অবশেষে মুখ খুলেছেন হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নয়াব সাইনি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত হবে এবং দোষী যেই হোক না কেন, তাদের রেহাই দেওয়া হবে না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দোষী ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাকে রেহাই দেওয়া হবে না।” তিনি এই মৃত্যুকে অত্যন্ত মর্মান্তিক আখ্যা দিয়ে বিরোধীদের প্রতি বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি না করারও অনুরোধ জানান।
যদিও মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিলেও, প্রয়াত অফিসারের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট দলিত সংগঠনগুলির ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবিতে গঠিত ৩১ সদস্যের একটি কমিটি ঘোষণা করেছে, হরিয়ানার ডিজিপি শত্রুজিৎ কাপুরকে পদ থেকে অপসারণ না করা পর্যন্ত তাঁরা ময়নাতদন্ত করতে দেবে না। অবিলম্বে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে চণ্ডীগড়ের সেক্টর ২০ গুরুদ্বারায় একটি মহাপঞ্চায়েতের ডাক দিয়েছে এই কমিটি। চাপের মুখে সরকার শেষ পর্যন্ত রোহতক এসপিকে সরালেও, ডিজিপির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে এই বিতর্ক দ্রুত থামবে না বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
