কুমারগঞ্জ: ভাঙা রাস্তাই এখন চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কুমারগঞ্জ ব্লকের (Kumarganj) জাখিরপুর পঞ্চায়েতের মেনাপাড়ার বাসিন্দাদের। বহুদিন আগে পুকুরের পাড় বরাবর একটি কংক্রিটের রাস্তা (Concrete highway) তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু পুকুরের পাড় ধসে পড়ায় সেই কংক্রিটের রাস্তার নীচের মাটিও ধসে যায়। ফলে ওই রাস্তার একটা বড় অংশ ভেঙে পুকুরে তলিয়ে যায় কয়েক মাস আগে। সেই থেকে এলাকার প্রায় শতাধিক পরিবারকে প্রতিদিন ওই বিপজ্জনক রাস্তার উপর দিয়েই প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
পথচারীরা হামাগুড়ি দিয়ে কোনওরকমে রাস্তাটি পার হচ্ছেন। তবে বাইক, সাইকেল, টোটো সহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে ওই রাস্তা দিয়ে। ফলে স্কুল-কলেজের পড়ুয়ারা থেকে শুরু করে অসুস্থ মানুষদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে ক্ষেত্রেই মারাত্মক অসুবিধার মুখে পড়তে হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এনিয়ে মাস তিনেক আগে বিডিও অফিস মাস পিটিশন জমা দেওয়া হয়েছিল। এমনকি পঞ্চায়েতকেও জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাতেও কোনও কাজ হয়নি। এনিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করে এক বাসিন্দা বলেন, ‘যাতায়াতের জন্য আমাদের প্রতিদিন কষ্ট করতে হচ্ছে। কেউ আমাদের মানুষ বলেই মনেই করছে না।’
এদিকে, জাখিরপুর পঞ্চায়েতেই কুমারগঞ্জের বিধায়ক তোরাফ হোসেন মন্ডলের বাড়ি। যা মেনাপাড়া থেকে মাত্র পাঁচশো মিটার দূরে। অথচ এত কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও সমস্যা সমাধানে প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের তেমন কোনও তৎপরতা দেখা যায়নি বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।
এনিয়ে কুমারগঞ্জের বিডিও শ্রীবাস বিশ্বাস বলেন, ‘ওই রাস্তার সমস্যা আগের বার্ষিক বাজেটে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তাই এলাকাবাসীকে পাড়ায় সমাধান ক্যাম্পে বিষয়টি নথিভুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল। নথিভুক্ত হলে নভেম্বরের মধ্যেই সমাধান হয়ে যাবে।’ তবে এলাকাবাসীর পালটা অভিযোগ, তাঁদের কেউ কিছু জানায় না। এমনকি তাঁরা জানেনই না পাড়ায় সমাধান ক্যাম্প কবে হয়েছে বা হবে।
অন্যদিকে, জাখিরপুর পঞ্চায়েতের প্রধান রুক্সেনা বিবির সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এনিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। ফলে কবে নতুন রাস্তা তৈরি হয়ে এই দুর্ভোগের অবসান ঘটবে, তা এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে মেনাপাড়ার শতশত মানুষের জীবনে।
