সৌরভকুমার মিশ্র, হরিশ্চন্দ্রপুর: একদিকে যখন গঙ্গার জলস্ফীতির চাপে ভূতনি ও রতুয়ায় ত্রাহি ত্রাহি রব, তখনই হরিশ্চন্দ্রপুরে (Harishchandrapur) ফুলহর নদীর বাঁধ ঘিরে অন্য দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে ভূতনির নতুন রিংবাঁধ ভেঙে গিয়েছে গঙ্গার জলের চাপে। আর ফুলহর নদীসংলগ্ন মহানন্দা বাঁধ নিয়ে অন্য উদ্বেগ। ভালুকা অঞ্চলের ঢালাই মোড় থেকে বিহারের (Bihar) দিল্লি দেওয়ানগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৩৩ কিলোমিটার বাঁধের একাধিক জায়গায় ধস, বড় গর্ত ও ইঁদুরের গর্ত তৈরি হয়েছে। বাঁধের ওপর থাকা পিচ রাস্তাটিও বিভিন্ন জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত। ভূতনিতে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর তাই মহানন্দা বাঁধের ওপর দিয়ে ১২ থেকে ১৬ চাকার ভারী পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ করেছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বেশ কয়েক বছর ধরে বাঁধের অবস্থা খারাপ হচ্ছে। লাগাতার বৃষ্টিতে কোথাও ধস নেমেছে, কোথাও তৈরি হয়েছে গর্ত। অজস্র ইঁদুরের গর্তও বাঁধের ক্ষতি করছে। এর মধ্যেই রতুয়া-মানিকচক থেকে ভালুকা হয়ে বিহারের দিকে এবং বিহার থেকে পাথরবোঝাই ট্রাক সহ একাধিক ভারী যান এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করত। তাঁদের দাবি, ভারী যান চলাচলে সংকীর্ণ বাঁধের রাস্তার ওপর চাপ বাড়ছিল। অতীতে এই রাস্তায় একাধিক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। ভালুকা, দৌলতপুর, দৌলতনগর ও ইসলামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এই বাঁধের রাস্তা। ফলে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ফুলহরের জলে হরিশ্চন্দ্রপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে জেলা পরিষদের অর্থে প্রায় ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তার সংস্কার হলেও বাঁধের সংস্কার দীর্ঘদিন হয়নি। ভালুকার বাসিন্দা বিবেক সাহা বলেন, ‘হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার জন্য এই বাঁধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিগত বেশ কয়েক বছর থেকে দেখা যাচ্ছে বাঁধে বিভিন্ন জায়গায় গর্ত হয়েছে, ধস নেমেছে, রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। পুলিশ ভারী পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ করেছে, তাতে বাঁধের ওপর চাপ কমবে ঠিকই, তবে বাঁধ অবিলম্বে মেরামত করা দরকার।’ ইসলামপুরের বাসিন্দা আশরাফুল হকেরও একই কথা। তিনি বলেন, ‘রাতে এবং দিনে এই বাঁধের ওপর দিয়ে এত সংখ্যক পণ্যবাহী লরি চলাচল করে যে এই বাঁধের ওপর থাকা বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে যানজট লেগেই থাকে।’ তাঁর দাবি, গত বছরই বাঁধে একাধিক জায়গায় ধস নেমেছিল। স্থানীয়রা বিষয়টি ব্লক প্রশাসনের নজরেও নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু সে সময়ে ভালো করে সংস্কারের কাজ হয়নি।
এই বাঁধ ভেঙে গেলে ফুলহরের জলে হরিশ্চন্দ্রপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ডুবে যাবে। বাঁধের অসংরক্ষিত অঞ্চলে প্রচুর মানুষ বসবাস করেন। পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে বর্ণাহির বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এই বড় বড় গাড়িগুলি যেভাবে এই বাঁধের ওপর দিয়ে চলাচল করে, তাতে আশপাশে থাকা বাসিন্দাদের প্রাণের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।’
জেলা সেচ দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবিলম্বে বাঁধটি সরেজমিনে খতিয়ে দেখে সংস্কারের কাজে নামা হবে। আর স্থানীয় বিধায়ক মতিবুর রহমান বলেন, এই বাঁধের রাস্তার ওপরে ভারী যান চলাচল এবং যানজট নিয়ে এলাকার বাসিন্দারা তাঁর কাছে অভিযোগ করেছিলেন। মতিবুর বলেন, ‘আমি জেলা পুলিশ এবং রাজ্যের সেচমন্ত্রীকে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বলেছিলাম। আশা করব, রাজ্য সরকার এই বাঁধ সংস্কার করবে।’

