অভিরূপ দে, ময়নাগুড়ি: ময়নাগুড়ি (Mainaguri) ব্লকের গ্রামীণ পুজোগুলিতে আড়ম্বর কম থাকলেও উৎসাহ এবং নিষ্ঠায় কোনও কমতি থাকে না। কোথাও পুজোর আয়োজনের মধ্যে দিয়ে ফুটে ওঠে রাজবংশী সংস্কৃতি। কোথাও স্থায়ী নাটমন্দিরে একশো বছরেরও বেশি সময় ধরে পুজো হচ্ছে।
ময়নাগুড়ি ব্লকের মাধবডাঙ্গা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ময়নাগুড়ি আসাম মোড় সংলগ্ন নারীশক্তির পুজোর (Durga Puja 2025) এবার চতুর্থ বর্ষ। ময়নাগুড়ি শহর সংলগ্ন ছোট ভান্ডানি ময়দানে মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে। পুজো উদ্যোক্তারা প্রথম থেকে গ্রামীণ ঐতিহ্যকে বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। প্রতিমা এবং প্যান্ডেলের মধ্যেও থাকে সেই ছাপ। প্রতিমার বেশ থাকে রাজবংশী বধূর সাজে। হলুদ শাড়ি সহ প্রতিমার অলংকারও থাকে সাধারণ। পানবাড়ির মৃৎশিল্পী কিরণ রায় প্রতিমা তৈরি করছেন। সানাই, দেশি বাজনা সহযোগে বৈরাতি নৃত্যের মাধ্যমে চলে দেবীবরণ। পুজো কমিটির সম্পাদক কল্পনা বর্মনের কথায়, ‘আমরা আমাদের পুজোর মাধ্যমে রাজবংশী ঐতিহ্য ধরে রাখা এবং তা সমাজের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করি।’
অন্যদিকে, ময়নাগুড়ি রোড নেতাজি সংঘ পাঠাগার পরিচালিত সর্বজনীন দুর্গাপুজো একশো বছরেরও বেশি পুরোনো। রোড এলাকায় স্থায়ী নাটমন্দিরে অন্যান্য বছরের মতো এবছরও পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিমা তৈরি করছেন মৃৎশিল্পী দিগ্বিজয় পাল, মণ্ডপসজ্জার দায়িত্বে রয়েছেন স্থানীয় বিশ্বজিৎ রায়। পুজো কমিটির সভাপতি দীপককুমার রায়ের কথায়, ‘গ্রামের সব থেকে পুরোনো পুজোয় মানুষের ঢল নামে। এই পুজোকে কেন্দ্র করে মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয় মণ্ডপ।’
ময়নাগুড়ি দক্ষিণ মাধবডাঙ্গা ফালতুর মোড় মাতৃ সংঘ পরিচালিত সর্বজনীন দুর্গাপুজোর এবার ১৫তম বর্ষ। এই পুজোতেও কোনও থিমের বাহার নেই।
