উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের (Hadi Homicide Case) তদন্তে এবার বড়সড়ো মোড় এল। মূল ঘাতক ফয়সাল করিম ওরফে দাউদ খানের দুই সহযোগীকে মেঘালয় রাজ্য থেকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পুলিশ। রবিবার ঢাকার মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার এন এন মহম্মদ নজরুল ইসলাম। এর ফলে হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এক আন্তর্জাতিক সমীকরণ সামনে এল।
তদন্তের অগ্রগতি ও চার্জশিট: এদিন নজরুল ইসলাম জানান, হাদি হত্যা মামলার তদন্ত এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে কাজ করছে এবং আশা করা হচ্ছে যে আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই আদালতে পূর্ণাঙ্গ চার্জশিট পেশ করা সম্ভব হবে। তবে তিনি এও স্পষ্ট করেছেন যে, মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিমকে এখনও ধরা সম্ভব না হওয়ায় এই খুনের প্রকৃত উদ্দেশ্য বা ‘মোটিভ’ সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘাতক ফয়সালকে হাতে পেলেই এই রহস্যের জট পুরোপুরি খুলবে বলে মনে করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।
সীমান্ত পেরিয়ে পলায়নের রোমহর্ষক কাহিনী: তদন্তে উঠে এসেছে যে, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার রাস্তায় হাদিকে গুলি করার পর ঘাতক ফয়সাল করিম এবং তার প্রধান সহযোগী আলমগীর শেখ ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত এলাকাকে বেছে নিয়েছিলেন। নজরুল ইসলাম জানান, “আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজনেরা হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে অত্যন্ত কৌশলে মেঘালয়ে প্রবেশ করেন। সীমান্ত পার হওয়ার পর তারা সেখানে ‘পূর্তি’ নামে এক ব্যক্তির আশ্রয়ে ছিলেন। পরে সামি নামে এক ট্যাক্সিচালকের সাহায্যে তারা মেঘালয়ের তুরা শহরে পৌঁছে গা ঢাকা দেন।” এই তথ্য পাওয়ার পরপরই ভারতীয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং তার ভিত্তিতেই মেঘালয় পুলিশ ফয়সালের দুই সহযোগীকে পাকড়াও করতে সক্ষম হয়।
আওয়ামী লীগ যোগ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা: এর আগে এই ঘটনায় আমিনুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছিল ঢাকা পুলিশ। পুলিশের দাবি, ধৃত আমিনুল যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরীর ভগ্নিপতি। অভিযোগ রয়েছে, তিনি খুনের পর ঘাতকদের নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দিতে এবং পালাতে সাহায্য করেছিলেন।
প্রেক্ষাপট ও গণরোষ: ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারি উদ্যোগে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ছ’দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর তাঁর প্রয়াণ ঘটে। হাদির মৃত্যুর খবর বাংলাদেশে পৌঁছাতেই দেশজুড়ে বিক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। ইনকিলাব মঞ্চের সমর্থক ও সাধারণ মানুষের গণরোষের মুখে পড়ে তছনছ হয়ে যায় একাধিক সরকারি ভবন, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং সংবাদপত্রের দপ্তর। এই অবস্থায় ঘাতকদের গ্রেফতার করা এখন পুলিশের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। ভারত ও বাংলাদেশ— দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন ফয়সাল ও আলমগীরের সন্ধানে যৌথভাবে কাজ করছে।
