‘বাগান থেকে লাইভ রিপোর্টিং’ করলেন রোহিত শর্মা। হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন। বাইশ গজে তাঁর দাপটের সঙ্গে পরিচিত হিটম্যান। এবার বিনো দুনিয়ায় পা রাখলেন। ২০০৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয়েছিল তাঁর। একই তারিখে টেলিভিশন শোয়ে অভিষেক হল রোহিতের। এ কথা নিজেই বললেন টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক। তাঁর ‘অ্যাটিটিউট’ ছিল একদম সাবলীল। মনে হচ্ছিল, বিরাট ছক্কা হাঁকিয়ে ডবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন।
অনুষ্ঠানের নাম ‘ফ্যামিলি ফুল হাউস উইথ রোহিত শর্মা’। সোনি নেটওয়ার্কে টিভি ও ওটিটি মাধ্যমে সম্প্রচারিত হয় অনুষ্ঠানটি। ছিলেন শ্রেয়স আইয়ার, অভিষেক নায়ার, শার্দূল ঠাকুরের মতো ক্রিকেটাররা। ‘শেহেরি বাবু’ গানে নেচেছেন হিটম্যান। আবার সেই বিখ্যাত ‘কোই ভি গার্ডেন মে নেহি ঘুমেগা’ মন্তব্যও করলেন। গার্ডেনে কী করতে মানুষ যায়? এ হেন প্রশ্নের উত্তরে কেউ বললেন, “ঘুরতে।” কারও কথায়, “প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে।” আর টিম ইন্ডিয়ার টেস্ট অধিনায়ক শ্রেয়সের মন্তব্য, “পিকনিকের জন্য যায়।” যা শুনে খুশি হন বিশ্বজয়ী অধিনায়ক। অনুষ্ঠানটি একটি ফ্যামিলি গেম শো। যা নানান মজার খেলায় সমাদৃত। দু’টি গ্রুপে ভাগ করে শুরু হয় শো। রোহিতের রসিকতা সেখানে নতুন মাত্রা পেয়েছে। এমন একটা শোয়ের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি হল। ক্রিকেট মাঠে তাঁর রসিকতা দর্শকদের পরিচিত। এবার সেই ব্যক্তিত্বই কাজে লাগল সঞ্চালকের ভূমিকায়।
আরও পড়ুন:
Wait khatam, masti shuru! 🤩
Jis pal ka intezaar tha woh lastly aagaya hai! 🕺
Tune in at 9:30 PM tonight for the grand premiere of Household Full Home with Rohit Sharma, solely on Sony LIV and Sony Leisure Tv.✨#FamilyFullHouse #RohitSharma #SonyLIV… pic.twitter.com/MjCUZUAb6j
— Sony Sports activities Community (@SonySportsNetwk) September 19, 2026
রোহিত শর্মার নতুন টেলিভিশন শোয়ের প্রথম পর্বেই ছিল ক্রিকেট ও বিনোদন জগতের চেনা মুখের জমজমাট উপস্থিতি। শ্রেয়স শার্দূলদের পাশাপাশি ছিলেন বলিউড কুণাল খেমু। যিনি তাঁর আসন্ন ছবি ‘ভাইব’-এর প্রচারও করেন। হাসির রসদ জোগাতে ছিলেন ভারতী সিং, চন্দন প্রভাকর ও হর্ষ লিম্বাচিয়া। ছিলেন পরিচিত মুখ জন্নত জুবেরও। শোয়ের উদ্বোধন নিয়ে সুনীল শেট্টি, তমন্না ভাটিয়া ও সিদ্ধার্থ মলহোত্রের মতো বলিউড তারকাদের নামও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এলেও, প্রথম পর্বে ছিলেন না তাঁরা। অনুষ্ঠানে উঠে এসেছে অনেক অজানা ঘটনাও।
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দু’টি ম্যাচে ব্যাট হাতে রোহিত শর্মার সময়টা ভালো কাটেনি। করেছিলেন মাত্র ১১ ও ২৬ রান। লর্ডসে সিরিজের শেষ ম্যাচে তাই চাপ ছিল ভারতীয় ওপেনারের উপর। কিন্তু সেখানেই ১৩৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে জবাব দেন রোহিত। লর্ডসে সেটিই ছিল তাঁর প্রথম শতরান। আর সেই ইনিংসের নেপথ্যে ছিল ‘লর্ড’ শার্দূল ঠাকুরের দেওয়া একটি ব্যাট। রোহিত বলেন, “শেষ যে ওয়ানডে সিরিজটা আমরা খেলেছিলাম, সেই সিরিজের শেষ ম্যাচে যে ব্যাট দিয়ে আমি রান করেছিলাম, সেটা আমাকে শার্দূল দিয়েছিল।” শার্দূল কেন তাঁকে ব্যাট দিয়েছিলেন, সেই গল্পও বেশ মজাদার। শার্দূল প্রায়ই ব্যাট উপহার পান। তাই তাঁর কাছে অতিরিক্ত ব্যাট থাকত। রোহিতের কথায়, “বোলারদের অনেক সময় ব্যাট দেওয়া হয়। শার্দূলও ব্যাট পায়। কখনও কখনও তো আমাদের থেকেও ভালো ব্যাট পেয়ে যায়!” সতীর্থের কাছ থেকে পাওয়া সেই ব্যাট হাতেই লর্ডসে ১৩৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন রোহিত।
Fingers ka routine set hai 😂🤞
Dekhiye Household Full Home with Rohit Sharma, kal raat se, Sat-Solar 9:30 baje, sirf #SonyEntertainmentTelevision aur Sony LIV par.#RohitSharma #FamilyFullHouse #SonyTV pic.twitter.com/G8j2QThWnG
— sonytv (@SonyTV) September 19, 2026
জানা গেল, একটা সময় টেস্টের চাপ কাটাতে মায়ের হাতের কলার চিপসই ছিল রোহিতের ভরসা। টেস্ট ম্যাচ মানেই বাড়তি চাপ। এর জন্য রাতে ঘুমও আসত না রোহিত শর্মার। এক রাত নয়, টেস্ট চলাকালীন রাতের পর রাত জেগে কাটিয়েছেন তিনি। তবে সেই দুশ্চিন্তার মধ্যে মনটা একটু হালকা রাখার জন্য তাঁর ভরসা ছিল মায়ের হাতের তৈরি এক বিশেষ এই খাবার। নিজেই সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন হিটম্যান। তাঁর কথায়,”টেস্টের মাঝে খুব চিন্তা হত। চাপও লাগত। টেস্ট আমার পছন্দের ফরম্যাট। বাকি ফরম্যাটও ভালো লাগে। কিন্তু টেস্টে চ্যালেঞ্জটা অনেক বেশি।”
হোটেলের ঘরে রাতে জেগে থাকলে খিদেও পেত। আর তখনই কাজে আসত মায়ের তৈরি কলার চিপস। রোহিত বলেন, “রাতে জাগলে খিদে তো পাবেই। কিছু একটা খেতে মন চাইবে। তাই মায়ের হাতে তৈরি কলার চিপস সব সময় সঙ্গে রাখতাম। ওটা আমার সবচেয়ে প্রিয় খাবার। খেলেই মন ভালো হয়ে যেত। মনে হত, চাপটা একটু কমেছে।” শুধু স্বাদের জন্য নয়, মায়ের তৈরি সেই কলার চিপসের প্রস্তুত প্রণালীও ছিল বেশ আলাদা। রোহিত জানিয়েছেন, “চিপসগুলো মা ভাজত না। মা যেভাবে বানাত, সেটা বেশ অদ্ভুত। অনেক দিন পর্যন্ত মচমচে থাকত। তাই আমি খেলতে গেলে সব সময় কলার চিপস সঙ্গে নিয়ে যেতাম। যখনই মনে হত, খেতাম।” কোনও ক্রিকেটার ভারতীয় দলে অভিষেক করলে ডেবিউ ক্যাপ পান তিনি। টিভি শোয়ে অভিষেক হল রোহিতের। তাঁকে ক্যাপ দিলেন রোহিত। এমন প্রাপ্তির পর আবেগঘন হিটম্যানের জবাব, “রুলায়েগা কেয়া?”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
