শুভদীপ শর্মা, লাটাগুড়ি: বিশাল দুই দাঁত। তাই নাম ‘আকাশপাতাল’। গরুমারা ও লাটাগুড়ি জঙ্গলের প্রাচীনতম ওই হাতিটির (Oldest Elephant in Gorumara) মৃত্যু হয়েছে। বেশ কয়েকমাস ধরেই সে নিখোঁজ ছিল। বৃহস্পতিবার গরুমারা জঙ্গলের সাউথ ইনডং থ্রি কম্পার্টমেন্ট থেকে তার দেহ (Gorumara Elephant Dying) উদ্ধার করেন কর্তব্যরত বনকর্মীরা। শুক্রবার ময়নাতদন্ত করা হয়। গরুমারা বন্যপ্রাণী বিভাগের এডিএফও রাজীব দে জানিয়েছেন, মৃত্যুকালে আকাশপাতাল-এর বয়স হয়েছিল প্রায় ৭০ বছর। বয়সের ভারে কার্ডিয়াক ফেলিওরের কারণেই দাঁতালটির মৃত্যু হয়েছে। নিঃসন্দেহে আকাশপাতাল-এর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই গরুমারার একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হল।
প্রায়ই খবর পাওয়া যায়, জঙ্গল লাগোয়া বিভিন্ন গ্রামে হাতি হানা দিয়েছে। তবে আকাশপাতাল ছিল বরাবরই কিছুটা আলাদা। দাঁতালটি গ্রামে চলে এলেও কখনও কারও ক্ষতি করেনি। বড়জোর বাড়ির বাইরের কলা গাছ খেয়ে আবার দুলকি চালে জঙ্গলে ফিরে গিয়েছে। গরুমারা লাগোয়া বিচাভাঙ্গা বুথুরাম সরস্বতী বনবস্তির বাসিন্দারাই তার এই নামকরণ করেছিলেন। স্থানীয় জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি সুবল পাইক বলেন, ‘পূর্ণবয়স্ক এই দাঁতালটিকে আমরা গরুমারার সব থেকে প্রবীণ হাতি বলেই চিনতাম। কোনওদিন কারও ক্ষতি করেনি।’
হাতি সাধারণত এক জঙ্গলে স্থায়ীভাবে বসবাস করে না। তবে কিছু কিছু হাতি রয়েছে যারা নিজেদের গণ্ডি নির্দিষ্ট করে ফেলে। জীবনের বেশিরভাগ সময় তারা একই জঙ্গলে কাটিয়ে দেয়। আকাশপাতাল ছিল সেই গোত্রের। বিশিষ্ট হস্তীবিশারদ পার্বতী বড়ুয়া এবিষয়ে বলেন, ‘অনেক হাতির এই ধরনের স্বভাব রয়েছে। এটা কোনও অস্বাভাবিক বিষয় নয়। তবে বয়সজনিত কারণে হাতিটি বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিল বলে শুনেছি।’ সরস্বতী বনবস্তির কৃষক মঙ্গল কোরা, সুরজ কোরারা জানালেন, তাঁরা বহুবার আকাশপাতাল (Wildlife Information Bengal)-এর মুখোমুখি হয়েছেন। ফসলের ক্ষতি করেনি। ঘরবাড়িও ভাঙেনি।
